বাংলাদেশকে ঘিরে বিস্তৃত হচ্ছে ভারতের ষড়যন্ত্র

আপলোড তারিখঃ 2026-09-12 ইং
বাংলাদেশকে ঘিরে বিস্তৃত হচ্ছে ভারতের ষড়যন্ত্র ছবির ক্যাপশন:

গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায় দিল্লি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ধারণা করা হয়েছিল নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে প্রতিবেশী দেশটি। বিএনপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সে ইঙ্গিতই পাওয়া গিয়েছিল। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপেও মনে হচ্ছিল দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহী। কিন্তু মুখে সম্পর্ক ভালো করার বার্তা দিলেও ভেতরে ভেতরে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড, ষড়যন্ত্র পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লির শাসকরা। সীমান্ত হত্যা, পুশইন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি, পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে প্রশ্রয় দিয়ে যাওয়াকে মোটেও ভালোভাবে নিচ্ছে না ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার এসব বিষয়ে বার্তা দেওয়া হলেও মোদি সরকার বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার কর্ণপাত করছে না। এতে ভারতের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হওয়া ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাই সঙ্গত কারণে তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেননি। গত বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের না যাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। এ সময় অবশ্য তিনি জানান, অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিকে হুমায়ুন কবীরের ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেয় ভারতের আদানি গ্রুপ। ঝাড়খান্ডে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যান্ত্রিক গোলোযোগের অজুহাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বাংলাদেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়াটা কাকতালীয় বা কোনো দুর্ঘটনাজনিত নয়, এটি পরিকল্পিত। মূলত তারেক রহমানের ভারত সফরে না যাওয়ার প্রতিক্রিয়া। ভারত সরকারের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে বিদ্যুৎ কমিয়ে দেওয়ার এ কৌশল নিয়েছে। যাতে করে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, গতকাল হঠাৎ করেই রাজধানী গুলশানে ঝটিকা মিছিল করে আওয়ামী লীগ। মাত্র ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী এই মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনাকেও বিচ্ছিন্নভাবে দেখতে রাজি নন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে ভারত। আর এক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভরসা পতিত স্বৈরাচারের দোসররা। ভারতেরই ইন্ধনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলের নামে দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। ইরান যুদ্ধে কারণে বিশ্বব্যাপীই এ সংকট দেখা দেয়। তবে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর করার বদলে বিদেশনির্ভর করে তুলেছে। শুধু তাই নয়, ভারতকে সুবিধা দিতে হাসিনা সরকার বাংলাদেশের ভেতরে এবং বঙ্গোপসাগরে গ্যাসকূপ খনন থেকে বিরত ছিল। এতে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের পথ হয়ে পড়ে সংকুচিত। যার মূল্য বর্তমানে জনগণকে দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য বেশ সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, 'সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বাংলাদেশের বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি। তবে আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আগে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সংকট থেকে উত্তরণে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। অপরিকল্পিত প্ল্যান যেগুলো ছিল, যা আমাদের জ্বালানি খাতকে একটি বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে, কিভাবে সেটিকে সঠিক করে নিয়ে আসতে পারি, কিভাবে এমন একটি পরিকল্পনা আমরা উপস্থাপন করতে পারি, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পেট্রল বলুন, গ্যাস বলুন বা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাত বলুন-এর থেকে দেশ এবং দেশের মানুষকে সংকট থেকে ধীরে ধীরে আমরা বের করে নিয়ে আসতে পারি।'

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)