ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল ইয়ার্ডে আমদানি করা ছোট পাথর (Stone Chip) আনলোডিংকে কেন্দ্র করে ইয়ার্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আনলোডিংয়ের সময় ছড়িয়ে পড়া ছোট পাথরে ইয়ার্ডের বিভিন্ন অংশ ভরে গেছে। এমনকি কয়েকটি রেললাইনের ওপরও পাথর জমে গিয়ে লাইন আংশিকভাবে ঢেকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার বলছেন, তার অবর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্তকর্তারাই এর জন্য দায়ী। তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, ‘সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বলছেন, পূর্বে কেউ কখনো অনুমতি নেয়নি। এভাবেই হয়ে থাকে। যা ক্ষতি হবে আমি ক্ষতিপূরণ দেব।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশন চলতি সপ্তাহে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ছোট পাথর আমদানি করেছে। মালামাল খালাস ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ হিসেবে কাজ করছেন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে দর্শনা রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে পাথর আনলোডিংয়ের ফলে ইয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে ডাম্পিং তৈরি হয়েছে। এতে ইয়ার্ডের ব্যবহারযোগ্য জায়গা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রেললাইন, শান্টিং এলাকা ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রেললাইনের ওপর ছোট পাথর জমে লাইন আংশিকভাবে ঢেকে যাওয়ায় ট্রেন পরিচালনা ও শান্টিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত পাথর অপসারণ না করা হলে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মালগাড়ি গ্রহণ, শান্টিং ও অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ইয়ার্ডের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়তে পারে। দর্শনা রেলগেটসংলগ্ন ইয়ার্ডে এর আগে এ ধরনের ছোট পাথর আনলোডিংয়ের ঘটনা সাধারণত দেখা যায়নি। প্রচলিতভাবে দর্শনা স্টেশনের উত্তর পাশে শান্তিপাড়া এলাকার বটতলার নির্ধারিত সাইটে ছোট পাথর আনলোডিং করা হয়ে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশন ম্যানেজারের দায়িত্বহীনতা এবং নির্দিষ্ট একজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। দর্শনা স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি এখানে মাত্র কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি। এর মধ্যেই আমি দুই দিনের ছুটিতে ছিলাম। আমার ছুটিতে থাকাকালীন দায়িত্বরতরা বিষয়টি জানেন। তবে আমি এসে বিষয়টি দেখার পর আমার ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তা ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন- যতটুকু ক্ষতি হবে, তিনি ক্ষতিপূরণ দেবেন।’
সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওখানে বিগত সময়েও পাথর নেমেছে। ওয়াগনের নীচের ডালা খুললে দুই ডানা দিয়ে এমনিতেই ১২-১৩ টন মাল পড়ে যায়। ৪২টি ওয়াগন আনলোড হয়েছে। এমনিতেই ২০০-৩০০ মাল নীচে পড়বেই। আমরা আজকেও মাল ট্রাকে তুলেছি। কালকেই শেষ করে ফেলব।’
এসময় অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমতি তো কেউ নেয় না। স্টেশন হিসেব করে ডেমারেজ কত হবে বললে আমরা দিয়ে দেব।’
