শিক্ষার্থীদের তপ্ত রোদে হাঁটিয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠালেন ইনচার্জ ফরিদা

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে পরীক্ষার ফি আদায়ে রশিদ না দেয়ায় সংবাদ প্রকাশ

ফরমেটিভ, ভাইভা ও ওরাল পরীক্ষায় নম্বর না দেয়ার ভয় দেখানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের

আপলোড তারিখঃ 2026-09-11 ইং
শিক্ষার্থীদের তপ্ত রোদে হাঁটিয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠালেন ইনচার্জ ফরিদা ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা ফি আদায়ে রশিদ না দেয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ ও বাধ্য করে প্রতিবাদলিপি দেওয়ানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এ ‘চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ; রশিদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী একটি লিখিত প্রতিবাদলিপি নিয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণ অফিসে আসেন।


তবে ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত বিতর্কিত ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন ও ইনস্ট্রাক্টর পারুলের নির্দেশে এবং চরম মানসিক চাপে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবাদলিপি পৌঁছে দিতে বাধ্য হন।


প্রতিষ্ঠান সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রতিবাদলিপি হস্তান্তরের জন্য নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ তীব্র রোদের মধ্যে পায়ে হেঁটে দৈনিক সময়ের সমীকরণ কার্যালয়ে আসেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর যুগ্ম সম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী শিক্ষার্থীদের সাদরে অভ্যর্থনা জানান ও আপ্যায়ন করেন।


কথা প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানান যে, পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলেও ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন তাঁদের কোনো রশিদ এখনো প্রদান করেননি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, জোর করে এ টাকা নেওয়া হয়নি এবং তারা চান- বিষয়টি যেন গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়।


এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে এক চাঞ্চল্যকর ও জিম্মিদশার বিবরণ তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, ইনস্ট্রাক্টর ও ইনচার্জের হাতে ফরমেটিভ, ভাইভা ও ওরাল পরীক্ষার নম্বর থাকায় তাঁদের নম্বর না দেওয়া এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার সরাসরি ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে। সেই প্রশাসনিক চাপের মুখেই তাঁরা রোদে হেঁটে পত্রিকা অফিসে প্রতিবাদলিপি নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ঢাকতে ইনচার্জ ও শিক্ষকরা নিজেরা বসে প্রতিবাদলিপিটি ড্রাফট বা তৈরি করে দেন।


ওই দুই শিক্ষার্থী আরও জানান, ভর্তির সময় তাঁদের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকারও বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে প্রতিষ্ঠানে এক ধরণের ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে ডেকে এনে চরম মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের জোরপূর্বক মহড়া ও জিম্মি রাজনীতির ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)