ছবির ক্যাপশন:
গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও তা সাধারণ কৃষকদের না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গুরুতর অভিযোগে ঝিনাইদহের শৈলকুপার এক বিসিআইসি সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। গত শনিবার জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে ‘মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ’ নামক ওই বিতর্কিত ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই সুপারিশের কথা জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে থাকা ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজের বিক্রয়কেন্দ্রে সার না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা। তারা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা আঞ্চলিক সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কৃষি কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদাম খুলে দেখতে পানÑভেতরে মজুদ রয়েছে ৩১০ বস্তা ইউরিয়া, ৪১০ বস্তা ডিএপি, ২৮২ বস্তা টিএসপি এবং ১৫০ বস্তা এমওপি (মোট ১,১৫২ বস্তা) সার!
বিপুল পরিমাণ সার মজুদ থাকা সত্ত্বেও তা আটকে রেখে সাধারণ কৃষকদের ফেরত দেওয়া হচ্ছিল। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে স্পটেই সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, সাবেক এমপির ডিলারশিপ বর্তমানে চালাচ্ছে তার ভাতিজা। দলীয় বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে সার দেওয়া হলেও সাধারণ কৃষকদের দিনের পর দিন ঘুরে হয়রান করা হচ্ছিল। শুধু এবারই প্রথম নয়, অবৈধ মজুদদারির অপরাধে গত ২৫ এপ্রিল ও ৪ আগস্ট দু'দফায় এই প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। সাবেক ক্ষমতাশীল দলের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, সারা জেলায় ফ্যাসিস্ট জামানার ডিলাররা সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের লাইসেন্স দ্রুত বাতিল করতে হবে।
জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ‘সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬’-এর ১৬.১ ধারা অনুযায়ী ডিলারশিপ চিরতরে বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সাধারণ কৃষককে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অসাধু চক্রকে কোনো ক্রমেই ছাড় দেওয়া হবে না।
