ছবির ক্যাপশন:
‘স্বৈরাচারের দোসর’ হয়ে এখনো কিছু পুলিশ সদস্য পুরোনো আচরণ থেকে বের হতে পারেনি- এমন অভিযোগ তুলে তাদের ‘মানুষ হওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা কলেজ ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে শিক্ষক নেতারা বলেছেন, যেসব পুলিশ সদস্য মিথ্যা মামলায় শিক্ষকদের চোর-ডাকাতের মতো গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরান, তারা যেন নিজেদের সন্তানদের কোনো শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করতে না পাঠান। কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত পুলিশের এক এসআইকে শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ভাষায়, কথিত 'হলুদ সাংবাদিকতার' বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এবং দুই কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথে এর জবাব দেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষক নেতারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর। অথচ একজন শিক্ষককে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে টেনে-হিঁচড়ে গ্রেপ্তার এবং পরে হাতকড়া পরানোর ঘটনা শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করেছে। তারা বলেন, আইন সবার জন্য সমান হলেও কোনো নাগরিককে অমানবিক বা অসম্মানজনকভাবে গ্রেপ্তার করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষক নেতারা বলেন, কোনো শিক্ষক অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু একজন শিক্ষককে আদালত প্রাঙ্গণে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাÑইউএনও, ট্যাগ অফিসার ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া বহিরাগত সাংবাদিকদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
