ছবির ক্যাপশন:
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৮ বছরের ভয়াবহ লুটপাট, অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার খেসারত আজ দেশের সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে নতুন কোনো গ্যাসকূপ অনুসন্ধান করা হয়নি, বরং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের নামে লুটপাট চালানো হয়েছে। যার খেসারত হিসেবে আজ দেশে তীব্র গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।’ গতকাল রোববার সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংকট কোনো একক সরকারের সংকট নয়, এটি দেশের জাতীয় সংকট। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমান সরকার সবার সঙ্গে সমন্বয় করে চলমান সমস্যা উত্তরণের নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ইতোমধ্যে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদারতার দৃষ্টান্ত।’
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জামায়াত শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কথা বললেও এখন আর তা বলছে না। তারা মূলত নিজেদের সুবিধাজনক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ৭২-এর সংবিধান বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।’
জামায়াত নেতা আবু তাহেরের ‘আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলে জামায়াতের আপত্তি নেই’ সংক্রান্ত বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ফেরানো নিয়ে জামায়াতের আপত্তি না-ই থাকতে পারে, কারণ ৯৬ সালে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল। তবে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই-আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শক্তি রাজপথে থেকে তাদের শক্ত হাতে বাধা দেবে।’
রোববার দুপুরে রাশেদ খান ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এসব অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ কেশবচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মাসরুর উল আলম এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মহব্বত হোসেন টিপুসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
