ছবির ক্যাপশন:
কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, আখ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ঐতিহ্যবাহী দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে আরও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিটে আখচাষি শামীম হোসেনের আখের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাব্বিক হাসান বলেন, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি কারখানা এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিগত সময়ের তুলনায় এবার কারখানার লোকসান অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। চিনি কারখানা ও ডিস্টিলারিসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ইউনিটকে আরও উন্নত ও লাভজনক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে নতুন পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বিয়ার উৎপাদনের বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়ন ও আয় বাড়াতে আরও কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষকদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমাদের কারখানার মূল কাঁচামাল আখ। কৃষকরা যাতে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মানসম্মত আখ সরবরাহ করতে পারেন, সে বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা চাষিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও জানান, আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ছিল ৬২৫ টাকা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আসন্ন মাড়াই মৌসুমে কৃষকরা বর্ধিত মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে রাব্বিক হাসান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। চিনি কারখানা বাদে প্রতিষ্ঠানের বাকি সব ইউনিটই মুনাফায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি এবং পরীক্ষামূলক খামার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জৈব সার উৎপাদনে রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত ‘সোনার দানা’ জৈব সার বিক্রি করে এবার প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। মাটির ক্ষয় রোধ ও উর্বরতা বৃদ্ধিতে এ জৈব সার কার্যকর ভূমিকা রাখছে। চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকার কৃষকরা আখের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলেও এ সার ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষকদের দেশের ‘প্রাণ’ উল্লেখ করে কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশা প্রকাশ করেন, আখের বর্ধিত মূল্য এবং আধুনিক কৃষি সহায়তার মাধ্যমে আগামী দিনে কৃষক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ই আরও সমৃদ্ধ হবে।
আখের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, ডিএম (সম্প্রসারণ) মাহাফুজুল আলম, সিডিএ সাকী মাহমুদ এবং স্থানীয় আখচাষি শামীম হোসেন।
