বইয়ের সঙ্গে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস-জুতা ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা

চলতি মাসে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুত ৬ লক্ষাধিক ড্রেস

আপলোড তারিখঃ 2026-08-21 ইং
বইয়ের সঙ্গে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস-জুতা ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা ছবির ক্যাপশন:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে প্রতি বছর বিনা মূল্যে বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের আর্থিক বোঝা লাঘব করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্যোগটি মূলত সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ অগ্রাধিকার ও আবেগের পরিকল্পনা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসেই শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে প্রাথমিকের সব শ্রেণিতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। ইতিমধ্যে ৬ লক্ষাধিক স্কুল ড্রেস প্রস্তুত প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম তৈরিতে আরাম, ব্যারবহারিক সুবিধা ও একরূপতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফ প্যান্ট দেওয়া হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ফিতাবিহীন সাদা রঙের জুতো দেওয়া হচ্ছে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে উত্সাহিত করতে দেওয়া হবে পরিবেশবান্ধব বিশেষ পাটের স্কুল ব্যাগ।


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস সরবরাহের সরকারি উদ্যোগে দেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল মিলগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ১১ আগস্ট সচিবালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ‘সরকার বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি। শিগিগরই প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আবেগ জড়িত। তিনি শিক্ষার প্রসারে মহত্ পরিকল্পনা থেকে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস কার্যক্রম উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল গত জুলাই মাসে। পরে তা পিছিয়ে ১৬ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল। আরেক দফায় পিছিয়ে চলতি মাসের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট বা প্রাথমিকের কোটি শিক্ষার্থী পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে প্রথমে দেশের তৈরি পোশাক খাতের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত ১ লক্ষাধিক স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে।


শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র অভিমত :শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস (ইউনিফর্ম) বিতরণ নিয়ে শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র অভিমত রয়েছে। সরকারের এই সামাজিক উদ্যোগকে কেউ কেউ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, শিক্ষার গুণমানের উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মতো মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করার বিষয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুই জন অধ্যাপক ইত্তেফাককে বলেন, প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস কেনা একটি বড় অর্থনৈতিক বোঝা। বিনা মূল্যে পোশাক, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হলে পরিবারগুলোর খরচ কমবে। যা ঝরে পড়া হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর জন্য একই পোশাকের ব্যবস্থা করায় শ্রেণিকক্ষে বৈষম্য দূর হবে। তারা বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পোশাক বা ব্যাগের চেয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ কারিকুলাম বাস্তবায়ন অনেক বেশি জরুরি। পোশাকের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে বেশি নজর দেওয়া উচিত। এছাড়া, সরকারিভাবে বিতরণ করা পোশাকের কাপড়ের মান ও সেলাই অনেক সময় নিম্নমানের হয়। সঠিক মাপের পোশাক না পাওয়ায় অনেক সময় তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে। স্কুল ড্রেস পরা বা না পরার সঙ্গে শিক্ষার্থীর মেধা কিংবা পরীক্ষার ভালো ফলাফলের কোনো সরাসরি বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের বিশাল বিতরণ প্রকল্পে প্রায়শই সময়মতো পোশাক না পৌঁছানো, ত্রুটিপূর্ণ সাইজ এবং অনিয়মের ঝুঁকি থাকে।


প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা :প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় থাকা ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)’-এর আটটি কর্মসূচির একটি হলো স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা প্রদান। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ব্যয় করবে ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। তবে ইউনিফর্ম, ব্যাগ, জুতা ও মোজা বিতরণ খাতে ঠিক কত টাকা ব্যয় হবে, তা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনোয়ারা ইসরাত এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো দাম ঠিক করিনি। প্রকল্প শুরু হলে বুঝতে পারব ড্রেসপ্রতি কত টাকা ব্যয় হয়।’


মাধ্যমিকেও পোশাক-জুতা-ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার পাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীরা :একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকেও শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামের এ প্রকল্পটি মাউশি হাতে নিয়েছে। এর আওতায় পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ১ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের প্রতি বছরে ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগের পাশাপাশি খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের বিশ্রামের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আলাদা দুটি কমন রুম, স্বাস্থ্য উপকরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উত্সাহিত করতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাব্যবস্থায় এমন সংযোজনের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে। তবে মাউশির এ প্রকল্পের ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি কেবল প্রস্তাবিত ব্যয়। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই এ খাতে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।


প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ব্যাগ দিতে স্কুলের তালিকা চেয়েছে ডিপিই :প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের উদ্দেশ্যে নির্বাচিত বিদ্যালয়সমূহের তালিকা ও শিক্ষার্থী সংখ্যার তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি জরুরি অফিস আদেশ সব বিভাগীয় উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)