ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গায় এডিপির অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের জন্য ক্রীড়া-সামগ্রী এবং অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪র্থ কিস্তির অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫টি বাইসাইকেল এবং অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধার্থে ২৮টি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের জন্য ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাট-বল, ভলিবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া-সামগ্রী দেওয়া হয়।
তবে এসব বিতরণের আগে বাইসাইকেলগুলোতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ও সৌজন্যে লেখা স্টিকার লাগানো নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। প্রতিটি বাইসাইকেলে লাগানো স্টিকারে লেখা ছিল- ‘শিক্ষা সহায়তা উপহার, এডিপির অর্থায়নে, সৌজন্যে মো. মাসুদ পারভেজ, মাননীয় সংসদ সদস্য-৭৯, চুয়াডাঙ্গা-১’। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয়দের বাধা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে স্টিকারগুলো খুলে ফেলার নির্দেশ দেন এমপি রাসেল। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের সিএ ও সংসদ সদস্যের একজন প্রতিনিধির সংশ্লিষ্টতার কথা স্থানীয়দের কেউ কেউ উল্লেখ করেন।
স্টিকার লাগানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘যেটা করা হয়েছে, সেটা ঠিক কাজ হয়নি। এ বিষয়টি আমি জানতাম না। আলমডাঙ্গায় আসার সময় পথের মধ্যে বিষয়টি জানতে পেরেছি। জানার পর আমি সেগুলো সরিয়ে নিতে বলেছি। এটা যৌক্তিক কাজ নয়। আমিও এ ধরনের কাজকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না।’
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এডিপির অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাইসাইকেল ও ক্রীড়া-সামগ্রী এবং অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হচ্ছে। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করতে পারে, সে লক্ষ্যেই তাদের বাইসাইকেল দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত খেলাধুলা করলে তরুণ প্রজন্ম মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তরুণদের মাঠমুখী করতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহেনেওয়াজ মেহেদী, উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ, ভেটেরিনারি সার্জন তরিকুল ইসলাম, নির্বাচন কর্মকর্তা মেজর আহমেদ, উপজেলা প্রকৌশলী মেজবাহুর রহমান, সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ও মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার ইমরুল হক।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
