ছবির ক্যাপশন:
যাদের দায়িত্ব হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষা করার, তাদের কারণেই হাসপাতালে সৃষ্টি হচ্ছে আরও বেশি বিশৃঙ্খলা। বর্হিবিভাগের টিকিট কাউন্টারে শত শত রোগীর দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও লাইন না দিয়েই পুলিশ সদস্যরা নিচ্ছেন টিকিট। এমনকি হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফকেও দেখা গেছে একই ধরনের আচরণ করতে।
জানা গেছে, গতকাল রোববার ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চুয়াডাঙ্গাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসতে পারেন, এমন খবরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেও শুরু হয় নানা তোড়জোড়। তবে কয়েকজন অসাধু স্টাফ এবং সুবিধাভোগী পুলিশ সদস্যদের ক্ষমতার দাপটে বারবার টিকিট কাউন্টারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেখা যায়। শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও লাইন ভেঙ্গে টিকিট কাউন্টারে টিকিট কাটতে দেখা যায় লিমন নামের এক দায়িত্বরত কনস্টেবলের।
এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি ওই টিকিটটি অন্য একজন মহিলার হাতে দেন। টিকিটটি দেখতে চাইলে ওই মহিলা গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরা কেড়ে নেন। এরপর শুরু করেন বাগবিতণ্ডা। এসময় আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ক্যামেরা ধরলে টিকিট দেখতে দিয়ে আর ফেরত নেননি পুলিশের কনস্টেবল পরিচয়দানকারী শারমিন নামের ওই নারী। এরপর রবিউল নামের আরেকজন ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক এসে সাংবাদিকদের কাছে নানা সুপারিশ শুরু করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি সদর হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলিফ। অন্যদিকে, সদর হাসপাতালের সাইকেল স্ট্যান্ডের পাহারাদার দুইজনকে দেখা যায় শত শত নারীদের দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও নিয়ম ভঙ্গ করে নারীদের লাইনের মধ্যে ঢুকে জোর করে টিকিট সংগ্রহ করতে। এসময় কয়েকজন নারী প্রতিবাদ করলে তদের সাথেও তর্কে জড়ান সাইকেল স্ট্যান্ডের ওই দুই কর্মী। শেষ মেষ তারা টিকিট নিয়েই আসেন।
এরপর দেখা যায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিলীপ নামের একজন মহিলাদের কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও জোর করে টিকিট সংগ্রহ করেন। এভাবেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিরাই করছেন বিশৃঙ্খলা। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতাল স্টাফদের বিরুদ্ধে তো বেশ সোচ্চার হাসপাতাল প্রশাসন। তবে পুলিশ সদস্যদের কে বা কারা থামাবে?
