ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটায় সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করছিলেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদা মোর্শেদা। তিনি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নানা উপহার নিচ্ছিলেন। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাতের সময় বেধে দেয়া আছে। প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার দুপুর একটা থেকে দুইটা পর্যন্ত।
এসময় দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল ইসলাম ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিও ধারণের বিষয়টি চিকিৎসক ডা. মাহমুদা মোর্শেদা দেখার পর তিনি কয়েকজন রোগীসহ ওই কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। এবং ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দিতে থাকেন। শুরু করেন বাকবিতণ্ডা ও দুর্ব্যবহার। ওই গণমাধ্যমকর্মীর কাছ থেকে ভিডিও ডিলিট করার আগ পর্যন্ত সৃষ্টি হয় নানা বিশৃঙ্খলা। শেষমেষ ওই গণমাধ্যমকর্মী ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য হন।
তারপর ওই চিকিৎসক দরজা খুলে দেন। তবে ওই রুমে থাকা কয়েকজন রোগীর স্বজন কৌশলে এই ঘটনার কিছু ভিডিও ধারণ করেছিলেন।
ওই সময়ে চিকিৎসা নিতে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী ববি আক্তার বলেন, ‘আমার বোনকে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে আসি। সেখানে এসে দেখি, একজন সাংবাদিক ওই চিকিৎসককে প্রশ্ন করছেন- ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি এ সময় ইমার্জেন্সিতে কেন। তিনি এসময় ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে চিকিৎসক ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন এবং চেয়ার থেকে উঠে চেম্বারের দরজা বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ না ভিডিওটি ডিলিট করা হবে, ততক্ষণ দরজা খোলা হবে না।'
আরেক চিকিৎসাপ্রার্থী ছবি খাতুন। এই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, 'আমরা রিপোর্ট দেখাতে চিকিৎসকের কাছে যাই। এ সময় একজন সাংবাদিক তাঁর বক্তব্য নিতে গেলে চিকিৎসক তাঁকে বক্তব্য না দিয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে সময় দিচ্ছিলেন। তখন সাংবাদিক ওই প্রতিনিধির সঙ্গে চিকিৎসকের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করেন। এরপর চিকিৎসক ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য চেম্বারের দরজা বন্ধ করে দেন এবং ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।'
এদিকে, নারী চিকিৎসক ডা. মাহমুদা মোর্শেদার স্বামী ফারুক হোসেনও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগী দেখেন। অথচ তিনি সরকারি চিকিৎসক নন। বিভিন্ন সময়ে জেলার চিকিৎসক বেসরকারি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ লক্ষ্য করে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও শুধুমাত্র ফারুক হোসেনই পেয়েছেন এই সুযোগ। এই সুযোগ ব্যবহার করে সদর হাসপাতাল থেকে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বার লাভলী টাওয়ারের রোগী টেনে নেবারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে এক চিকিৎসক প্রশ্ন করেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফারুক হোসেন বসেন কোন এখতিয়ারে?কেন তার জন্য একটি কক্ষ রাখা হয়েছে? বেসরকারি চিকিৎসক তো সদর হাসপাতালে রোগী দেখতে পারেন না। সরকারি হাসপাতালের পরিচয় বহন করে নিজের মালিকানাধীন ক্লিনিকে রোগী টেনে নিয়ে যান তিনি। আর আপনারা জানেন কি? সদর হাসপাতালে একজন সরকারি চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ আছে, তারপরও ফারুক হোসেন কোন যোগ্যতায় সদর হাসপাতালে রোগী দেখেন?’
আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক বলেন, ‘ফারুক হোসেন তো ব্যবসা করছেন। তিনি তার নিজের হাসপাতালে রোগী টানেন। তিনি এবং তার স্ত্রী সদর হাসপাতালে রোগীদের সাথে বাজে আচরণও করেন।’
চিকিৎসক ডা. মাহমুদা মোর্শেদার এরূপ অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি সন্ধ্যায় জানতে পেরেছি। যখন ঘটেছে তখন জানলে এটি নিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি যাচাই বাছাই করতাম। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমি এটি তদন্ত করব।’
অপরদিকে, সরকারি চিকিৎসক না হয়েও ডা. ফারুক হোসেনের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা, বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এটি নিয়ে আমি মুঠোফোনে মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আপনি সরাসরি আসেন, বলব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফারুক হোসেন শোনালেন নিজের কথা। কোনো প্রকার কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও তিনি সরাসরি দাবি করেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক স্যারের লিখিত অর্ডার আছে।’
এ সময় তার কাছে লিখিত চিঠির কপির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আপনি আসবেন না? আপনি আসেন, আপনাকে দেখাবো। দেখানোর আগে আপনাকেও তো দেখতে হবে। আপনার ইনফরমেশন লাগলে কালকে সকালে আসেন।’
