ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত : সদর থানায় ১০ ও দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ৫ মাদকসেবী আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদার পীরপুরকুল্লা গ্রাম থেকে প্রায় ৪৫ কেজি গাঁজাসহ বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কার্পাসডাঙ্গার পীরপুরকুল্লা গ্রামের মখোলাপাড়ার রফিকুলের বাড়ীর গোয়ালঘর থেকে তিন বস্তা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত তিনবস্তা আনুমানিক ৪৫ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। এদিকে, মাদকসেবনের সময় ১০ মাদকসেবীকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা সদন থানা পুলিশ। জীবননগরে প্রকাশ্যে মাদকসেবনের দায়ে তিন মাদকসেবীকে ১৫ দিনের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দর্শনা থেকে ৫ মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আকরাম হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দামুুড়হুদা থানার পীরপুর কুল্লা গ্রামের মোহাম্মদ ওরফে মহব্বত আলীর ছেলে রফিকুলের (৪৫) বাড়ীতে অভিযার চালানো হয়। এ সময় কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জের নেতৃত্বে অভিযœ চালিয়ে গরুর গোয়ালঘর তল্লাশী করে তিন বস্তা আনুমানিক ৪৫ কেজি ভারতীয় গাজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এসময় বাড়ীর মালিক রফিকুল ও তার ছেলে শাহ আলমকে আটক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ।
এদিকে, আটকের পর রফিকুল ইসলাম জানান, গাঁজার আসল মালিক পীরপুর কুল্লা গ্রামের মখোলাপাড়ার হাসেম মন্ডলের ছেলে মাদকসম্রাট কায়জার হোসেনের। বহু অপকর্মের হোতা মাদকস¤্রাট কায়জার ইতিপূর্বেও সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক হয়। পরে আবারো কায়জারের ফেন্সিডিলসহ কায়জারের আলমসাধুর ড্রাইভার আটক হলেও সে দফা পালিয়ে রক্ষা পায় কায়জার। কয়েকমাস পূর্বেও বিজিবি আটক করে কায়জারকে। সর্বশেষ কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাজ্জাক মেম্বারের উপর সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম আসামী বহুল আলোচিত এই কায়জার। কায়জার বারবার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে অদৃশ্য ক্ষমতা তদবীরের বলে থাকছে ধরাছোয়ার বাইরে। এবারও কায়জার নিজেকে বাঁচাতে সব্বোর্চ শক্তি দিয়ে শুরু করেছে তদবীর। এমনকি তার নামে সংবাদ যেন প্রকাশ না করা হয় তারও তদবীর শুরু করেন।
দামুড়হুদা- জীবননগর সার্কেল সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে যদি কায়জারের নাম উঠে আসে, তবে তাকে আটক করে আইনের আওতায় নেয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবেনা।
মাদকসম্রাট কায়জারকে আইনের আওতায় আনতে ও রফিকুলের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহ আলমের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল। অপরদিকে, পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরো ৪ জন মাদক বিক্রেতাকে ২ কেজি গাঁজসহ আটক করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটককৃতদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ১০ মাদকসেবনকারী আটক হয়েছে। আটককৃতরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের চাঁন জালীর ছেলে শামসুল আলম, মৃত বনামুল্লাহর ছেলে আরশেদ আলী, আরামপাড়ার মৃত ফজলুর ছেলে কালু, গড়াইটুপি থেকে মৃত জনার আলীর ছেলে মক্কেল আলী, বড় শুলিয়া থেকে মৃত আফসার উদ্দিনের ছেলে নজির আলী, চুয়াডাঙ্গা রেলপাড়ার মৃত কাইয়ুমের ছেলে গোলাম রসূল জোয়ার্দ্দার বাবু, সাতগাড়ি থেকে মৃত মুসাউল্লাহের ছেলে রতন, হানুরবাড়াদি গ্রামের আমিরুল ইসামের ছেলে গাহীর উদ্দিন, ফার্মপাড়া থেকে হাবিল শেখের ছেলে ডাবলু, জোয়ার্দ্দার পাড়া থেকে মৃত আরফিন শেখের ছেলে আহাদ। গতকাল শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে মাদকসেবন করা অবস্থায় আটক করা হয়।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগর দৌলৎগঞ্জ নামক স্থানে প্রকাশ্য মাদক সেবন করার অপরাধে তিনজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন মোবাইল কোর্ট। গতকাল শুক্রবার বিকালে মাদক দ্রব্য আইনে ১৯৯০ (৯) ১১ ধারা মোতাবেক দন্ডনিয় অপরাধে তিনজন মাদক সেবনকারীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আটককৃত মাদক সেবনকারীরা হলো- জীবননগর উপজেলার মনোহারপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামের মিলন খানের ছেলে রাজন, রেজাউল হোসেনের ছেলে সামিউল ও জীবননগর পৌরসভার ৬নং ওর্য়াডের আব্দুর রশিদের ছেলে মিলন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সেলিম রেজা।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দর্শনায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫ মাদকসেবিকে আটক করেছে পুলিশ গতকাল শুক্রবার বিকালের দিকে দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দর্শনা পৌর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। এ মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে পৌর এলাকার শান্তিপাড়া থেকে মোবারক পাড়ার সিরু মিয়ার ছেলে মিলন হোসেন, আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের পিছন থেকে পাঠান পাড়ার নুরু মিয়ার ছেলে স্বপন আলী, দর্শনা হল্ট স্টেশন এলাকা থেকে দামুড়হুদার হাউলি ইউনিয়নের দুধপাতিলা গ্রামের ভিখু মন্ডলের ছেলে সুমন আলী ও ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সামন্তা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে আ.মালেক এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামের ধানখোলার লতিফ সর্দারের ছেলে ইস্রাফিল হোসেনকে আটক করে। দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই জাহাঙ্গীর, এএসআই লাভলু ও মনির অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতদেরকে বিরুদ্ধে গতকাল রাতেই মামলা দায়ের করে দামুড়হুদা মডেল থানায় সোপর্দ করেছে পুলিশ।
