ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিয়মিত চোরাচালান বিরোধী অভিযানে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল, ওষুধ ও মাদকদ্রব্য। তবে প্রায় প্রতিটি অভিযানের পরই একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে "মালিকবিহীন এসব ভারতীয় পণ্যের আসল গন্তব্য কোথায়?
সীমান্তে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল মূল্যের পণ্য বা মাদক জব্দ হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে এর পেছনের মূল পাচারকারীরা। বিজিবির একের পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চোরাচালানিদের অনুপস্থিতি বা 'আসামিবিহীন' আটকের তথ্য স্থানীয় সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৮ বিজিবি) মহেশপুর ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান প্রেরিত পৃথক তিনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিচালিত বেশ কয়েকটি বড় অভিযানে কোনো চোরাকারবারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ গতকাল বুধবার বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নতুনপাড়া বিওপির সীমান্ত পিলার-৬৫/২-এস থেকে বাংলাদেশের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে একটি আম বাগানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় কীটনাশক এবং ১,৬৭০ পিস মূল্যবান ওষুধ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তবে এত বড় চালান ফেলে পাচারকারীরা কীভাবে পালিয়ে গেল বা তাদের পরিচয় কী তা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১০ আগস্ট মহেশপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকা থেকে আরও দুটি 'আসামিবিহীন' চালান জব্দ করে বিজিবি। ওই দিন মাধবখালী বিওপির সীমান্ত পিলার-৭০/৬-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের একটি আম বাগান থেকে হাবিলদার আবুল হাসানের নেতৃত্বে ১৭২ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় সিরাপ মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
একই দিন ভোরে মহেশপুরের মাটিলা বিওপির অধীনস্থ সীমান্ত পিলার-৫২/২৫-আর থেকে প্রায় ৫০০ গজ অভ্যন্তরে হাফির মোড় এলাকা থেকে হাবিলদার মো. শাহিবুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ৫০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়, যার সিজার মূল্য ধরা হয় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯০০ টাকা।
অন্যদিকে, গত ১১ আগস্ট ভোর রাত ৪টা ৩০ মিনিটে লড়াইঘাট বিওপির সীমান্ত পিলার-৬০/১৩৩-আর থেকে প্রায় ৪০০ গজ অভ্যন্তরে নয়াপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের শিম ক্ষেতের মধ্য থেকে সুবেদার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২২ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে বিজিবির টহল দল।
প্রতিটি অভিযানে দেখা গেছে, আম বাগান, শিম ক্ষেত কিংবা নির্জন মোড়কে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পণ্য ও মাদকের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসছে সীমান্ত চোরাকারবারীরা। বিজিবির টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে চম্পট দিচ্ছে তারা। ফলে এসব অবৈধ মালামালের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কোন হাত ধরে কোথায় যাওয়ার কথা ছিল, কিংবা এর নেপথ্যে কোনো বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না তা বরাবরের মতো অধরাই থেকে যাচ্ছে।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দা ওবাইদুল ইসলাম জানান, শুধু মালামাল জব্দ করে সীমান্ত চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এসব পণ্যের প্রকৃত মালিক ও রিসিভারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে চোরাচালানের গতি থামবে না।
এ বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বুধবার বিকেলে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেই উল্লেখ করেছেন সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমন এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ও মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো মূল্যে চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি।
