ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদায় যাত্রী সেজে পাখি ভ্যান ভাড়া করে কৌশলে সেটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার বেলা তিনটার দিকে দামুড়হুদা সদর থেকে চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পাখি ভ্যানচালক মো. ইব্রাহিম হাসান দামুড়হুদা উপজেলার দশমীপাড়ার আবুবক্করের ছেলে। তিনি অন্যের কাছ থেকে পাখি ভ্যান ভাড়া নিয়ে চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ইব্রাহিম হাসান জানান, বুধবার বিকেলে দামুড়হুদা সদরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে এক ব্যক্তি যাত্রী সেজে তার পাখি ভ্যান ভাড়া করেন। ওই ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা গিয়ে বিস্কুটের কার্টন নিয়ে আবার দামুড়হুদায় ফিরবেন বলে জানান। এ জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া ঠিক হয়। পরে ওই যাত্রীকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার ফেরিঘাট সড়কে পৌঁছালে তিনি ভ্যানচালককে দাঁড়াতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি নীল রঙের একটি অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। তিনি ভ্যানচালককে জানান, কিছু খোলা বিস্কুট রয়েছে এবং সেগুলো নেওয়ার জন্য বস্তা কিনতে হবে।
এরপর ওই ব্যক্তি ইব্রাহিমকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের ভেতরে যান। সেখানে দুটি বস্তা কেনার পর বস্তাগুলো ইব্রাহিমের হাতে দিয়ে তাকে ভ্যানের কাছে গিয়ে মালামাল তোলার কথা বলেন। আর ওই ব্যক্তি বাজারে তার কিছু কাজ আছে বলে সেখানে থেকে যান। ইব্রাহিম বস্তা নিয়ে ফেরিঘাট সড়কে ফিরে দেখেন, সেখানে তার পাখিভ্যানটি নেই। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা ব্যক্তিকেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি বুঝতে পারেন, যাত্রী সেজে আসা ব্যক্তি কৌশলে তার পাখিভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
ইব্রাহিম হাসান বলেন, ‘আমি অন্যের কাছ থেকে পাখিভ্যানটি ভাড়া নিয়ে চালাই। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে। প্রতারকরা ভ্যানটি নিয়ে যাওয়ায় আমি চরম বিপদে পড়েছি। এখন ভ্যানটির মালিককে কী জবাব দেব, সেটাই বুঝতে পারছি না। ভ্যানটি উদ্ধারে সবার সহযোগিতা চাই।’ চুরি যাওয়া পাখি ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য ৪৫ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভ্যানটির প্রকৃত মালিককে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
