ছবির ক্যাপশন:
দীর্ঘ ৪৭ বছরের কর্মজীবনের ইতি টেনে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেন জীবননগর থানা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আয়া মীরা খাতুন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল থেকে বিদায়ের মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় বিদ্যালয়জুড়ে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে মীরা খাতুনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
মীরা খাতুন ১৯৭৯ সালে জীবননগর থানা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট তাঁর কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটে। তিনি জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যাদব কুমার পরামানিকের সভাপতিত্বে শিক্ষক-কর্মচারীরা মীরা খাতুনের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন। বক্তারা তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গাজী মমিনউদ্দিন, সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ইউসুফ আলী, হাবিবুল ইসলাম, মোস্তাক হোসেন, কবির হোসেন, ইসরাফিল হোসেন, আসাদুজ্জামান, নুরুজ্জামান, সেলিনা বানুসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যাদব কুমার পরামানিক বলেন, মীরা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তাঁর বিদায়ে আমরা শুধু একজন কর্মীকে নয়, আমাদের পরিবারের একজন সদস্যকে বিদায় দিচ্ছি। তাঁর আগামী জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুকÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিদায়ী মীরা খাতুন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা কখনো ভোলার নয়। বিদ্যালয়ের প্রতিটি দিন ও সবার ভালোবাসা আমার স্মৃতিতে থাকবে। বিদায়ের এই মুহূর্তে সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মীরা খাতুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দেওয়া হয়। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে তাঁর সুস্থতা, সুখ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁকে মাইক্রোবাসযোগে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেন। দীর্ঘ ৪৭ বছরের কর্মস্থল থেকে বিদায়ের এই মুহূর্তটি উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন স্মৃতি হয়ে থাকবে।
