ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তে পরিদর্শন করেছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ৯৪৫ নম্বর স্মারকের এক চিঠির মাধ্যমে কলেজ ফান্ডের অর্থআত্মসাৎ এবং বাংলা বিভাগে ‘আরলিজা খাতুন’ নামে এক ব্যক্তির কথিত অনিয়মিত নিয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তারা পরিদর্শনে আসেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ (আহ্বায়ক), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন।
তদন্ত শুরুর আগে কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট সব মূল নথিপত্র, হিসাবের রেজিস্টার, ক্যাশ ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, গভর্নিং বডির সভার কার্যবিবরণী (রেজুলেশন) এবং নিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত চলাকালে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির ও গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসান তদন্ত কমিটির সামনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং একাধিকবার নথিপত্র প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও অধ্যক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসকের নির্দেশে কলেজের মূল ভাউচার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মহোদয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তদন্ত কমিটির কাছে সেগুলো উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসান বলেন, ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। বিল-ভাউচার ও নিয়োগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।
তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা প্রায় ৯৫ শতাংশ অনিয়ম ও অসংগতির সত্যতা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারা এবং তদন্তে অসহযোগিতা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। পাশাপাশি ভুয়া নিয়োগের সত্যতাও মিলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে যার নাম এসেছে, সেই আরলিজা খাতুন তদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন না। অধ্যক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং বিভিন্ন অজুহাত দিয়েছেন। এছাড়া কলেজে ক্রয় কমিটি, কোটেশন কমিটি ও প্রয়োজনীয় রেজিস্টার সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। শিক্ষকদের কাছ থেকেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
তিনি জানান, তদন্ত কমিটি আরও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে আগামী সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
