দামুড়হুদার ডিসি ইকো পার্কে গাছ কাটায় অনিয়মের অভিযোগ

নিলামকৃত ২৯টির সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ গাছ কর্তন

আপলোড তারিখঃ 2026-07-31 ইং
দামুড়হুদার ডিসি ইকো পার্কে গাছ কাটায় অনিয়মের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

দামুড়হুদা উপজেলার হরিরামপুর গ্রামে অবস্থিত ডিসি ইকো পার্ক। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ডিসি ইকো পার্কটি সৌন্দর্য বর্ধন করতে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ২৯টি মরা গাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ২৯টি মরা গাছের নিলাম পায় চন্দ্রবাস গ্রামের নজরুল ইসলাম। তবে কাঠ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নিলামকৃত ২৯টি মরা গাছ ছাড়াও অতিরিক্ত ১৫টি মরা গাছ কাটায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।


অতিরিক্ত গাছ কাটার খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে যাচাই বাছাইয়ের জন্য যাওয়ার নির্দেশনা দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমের নেতৃত্বে তদন্তটিম হরিরামপুর ডিসি ইকো পার্কের ভিতর নিলামকৃত ২৯টি গাছ ছাড়াও অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অতিরিক্ত ১৫টি গাছ কাটার সত্যতা পায়। সত্যতা জানতে পেরে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন কঠোর আইনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।


জানা যায়, ডিসি ইকো পার্কটি সৌন্দর্য বর্ধন করতে ডিসি ইকোপার্কের ঝুঁকিপূর্ণ মরাগাছ অপসারণের জন্য গত ১৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ডিসি ইকোপার্কের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ বিক্রির জন্য নিলাম দেওয়ার সমস্ত প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ও ডিসি ইকো পার্কের কেয়ারটেকার বাহালুলকে। গত ১৯ জুলাই নিলাম অনুষ্ঠানে যে সর্বোচ্চ দরদাতা হবে তাকে নিলাম কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিসি ইকোপার্কের মরাগাছ কাটার নির্দেশনা প্রদান করা হবে।


তবে ডিসি ইকো পার্কের কেয়ারটেকার বাহালুলের কারসাজিতে বহুল প্রচার না করে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিনের নিকট উপস্থাপন করেন। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা চন্দ্রবাস গ্রামের নজরুল ইসলামের নিকট মরা আম গাছ ১৯টি, মরা শিশু গাছ ০৬টি, মরা কাঠাল গাছ ৪টিসহ মোট ২৯টি মরা গাছ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় নিলাম হয়। 


তবে স্থানীয়রা কয়টি গাছ নিলাম হয়েছে এবং কয়টি গাছ কাটছে তা দেখতে গিয়ে দেখে নিলামকৃত গাছের চেয়ে আরও ১৫টি গাছ অতিরিক্ত কেটেছে নিলামকারী নজরুল ইসলাম। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন অতিরিক্ত গাছ কাটার খবর পেয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন।


দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘটনাস্থলে যাচাই-বাছাই করে ১৫টি অতিরিক্ত মরা গাছ কর্তন করেছে এই মর্মে সাংবাদিকদের জানান। নিলামকারী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যখন নিলামের গাছ কিনতে আসি ডিসি ইকো পার্কে, তখন তিন চারজনের উপস্থিতিতে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় সমস্ত মরা গাছ ক্রয় করি।’


কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় সকল ব্যবসায়ীদের সামনে মরা গাছ নিলামে বিক্রয় করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডিসি ইকোপার্কে গাছ নিলাম হচ্ছে স্থানীয় কোনো লোকজনই জানে না। দুই-তিনজন সিন্ডিকেট করে এই নিলাম গাছ ক্রয় করেছে। এবং নিলামকৃত গাছের চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের কাজকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই সেই সাথে তদন্তপূর্বক ডিসি মহোদয়ের নিকট বিচারের দাবি জানাই।


দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, বিধি মোতাবেক ডিসি ইকো পার্কের সৌন্দর্য বর্ধন করতে মরা গাছ কর্তনের জন্য নিলাম ডাকা হয়। নিলামকৃত ২৯টি মরা গাছ কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তারা অতিরিক্ত মরা গাছ কেটেছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)