চুয়াডাঙ্গায় এনসিপির জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ও পথসভায় আখতার হোসেন

আমরা তরুণদের মধ্যে হতাশা দেখতে চাই না

আপলোড তারিখঃ 2026-07-28 ইং
চুয়াডাঙ্গায় এনসিপির জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ও পথসভায় আখতার হোসেন ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টায় শহরের বড়বাজার শহিদ হাসান চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।


বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে আমরা সুদীর্ঘ অতীত থেকে দেখে আসছি। আমাদের ওপর দিয়ে একটি দীর্ঘ সময় অতিক্রম হয়েছে। আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। কেউ কথা বলার সাহস দেখালে মামলা দিয়ে জেলখানায় নিয়ে গিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বন্দি করে রাখা হতো। এমন এক দুঃশাসন তৈরি করে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। সে দুঃশাসনের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষকে থাকতে হয়েছে। তারা বলেছিল, ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা আজীবন মনে রাখবে।’ এমন একটি কঠিন সময় বাংলাদেশের মানুষকে অতিক্রম করতে হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, এই বিপ্লবে বাংলাদেশের লাখো-কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য আপনাদের চুয়াডাঙ্গার অনেকেই জীবন দিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি।”


তিনি বলেন, আপনাদের এখানে যে জুলাই স্তম্ভ আছে, তা দেখলে আওয়ামী লীগের মাথা গরম হয়ে যায়। এর কোনো জীবন নেই, কিন্তু এটি মানুষের মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই স্তম্ভের লেখা কথাগুলোই আওয়ামী লীগের সিংহাসনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে শুনেছি, রাষ্ট্রের সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, তবে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংবিধান ও প্রশাসনের সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটা স্থানে তাদের দলীয় নেতা কর্মী নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। সংবিধান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা পরিষদসহ বড় বড় জায়গাতে বিএনপি তাদের নিজের লোক বসিয়েছে। এভাবে যদি সকল স্থানে নিজেদের লোক রাখা হয় তবে সেটা সবার আগে বাংলাদেশ আর থাকেনা, সেটা হয়ে যায় সবার আগে বিএনপি।


তিনি বলেন, আমাদের যুবসমাজের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা লেখাপড়া শেষ করেও চাকরি পাচ্ছে না। আমরা সরকারকে বলতে চাই, বাংলাদেশের তরুণদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করুন। আমরা তরুণদের মধ্যে হতাশা দেখতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যদি সত্যিই আপনারা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান তবে সবার আগে গণভোটের রায়কে বাস্তবায়ন করতে হবে।


পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য আমরা আজ আপনাদের দুয়ারে হাজির হয়েছি। আমরা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ভোটে ভোট চুরি হতে দেখেছি। অন্যান্য সরকার ভোট চুরি করত, কিন্তু এবার বিএনপি সরকার ভোটের পর ভোটের ফলাফল চুরি করেছে। এই দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। বর্তমান সরকারও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে সংসদে তারা বলেছেন আমরা ভোটের স্বার্থে গণভোটে "হ্যা" এর পক্ষে ছিলাম। বিএনপি সরকার ও তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করেছেন।


তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো কীভাবে দখল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে কীভাবে দখল করা হয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এই কথাটি বিএনপি ধারণ করেনা, তারা ধারণ করে সবার আগে জাতীয়তাবাদী দল। আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ সরকার ভোটের সময় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করত। কিন্তু বর্তমান সরকার ও বিএনপির তারেক রহমান এখন থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং করা শুরু করে দিয়েছেন।”


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক জায়গায়, প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করছে। এমনকি আমাদের পুলিশ ভাইদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। আপনারা দেখেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা সর্বপ্রথম সংস্কারের আলাপ নিয়ে এসেছে। কিন্তু জঘন্যতম বিষয় হলো, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেই পুলিশ সংস্কারের বিষয়টি বাদ দিয়ে দিয়েছে। এই পুলিশকে তারা আবার বেনজির বানাতে চাই, নিজেদের মত চালাতে চাই, কিন্তু বাংলার জনগণ সাথে থাকলে পুলিশ ভাইদের আমরা দলীয় হতে দিবোনা। পুলিশ কোন দলের না, পুলিশ ভাইদের মনে রাখতে হবে আপনারা যে ইউনিফর্মটা পড়ে আছেন তা এই দেশের ২০ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা।


তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মিডিয়া ভাইদের সাক্ষী রেখে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন অপরাধ করেছে। ঠিক একইভাবে আপনাদের সাক্ষী রেখে বিএনপির সরকার বিভিন্নভাবে অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা জানি আপনার কথা বলতে চান, সত্য তুলে ধরতে চান, সৎ থাকতে চান। কিন্তু বসুন্ধরার মত বিভিন্ন মিডিয়া গ্রুপ গুলো আপনাদের স্বাধীন হতে দেইনা। এই মিডিয়া গ্রুপ গুলো লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে কিন্তু তারা আমাদের সাংবাদিক ভাইদের ৫ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা বেতন দেই। সাংবাদিক ছাড়া এই দেশটা চলা সম্ভব না। আমরা মিডিয়া কমিশন ও স্বাধীন মিডিয়া কমিশনের কথা বলেছিলাম, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বিএনপি মিডিয়াকে কুক্ষিগত করার জন্য এই স্বাধীন মিডিয়া কমিশন হতে দিবে না।


এছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলী রুশদী মজনু। এসময় এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)