ছবির ক্যাপশন:
ভোরের আলো ফোটার আগেই সীমান্ত দিয়ে অলক্ষ্যে ৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) পরিকল্পনা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের প্রখর দৃষ্টি ও তাৎক্ষণিক কঠোর বাঁধায় বিএসএফের সেই পুশ ইনের অপচেষ্টা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সামন্তা বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
৫৮ বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি সংলগ্ন গেটটি ব্যবহার করে ভারতের ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারীসহ মোট ৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তবে সীমান্তে দায়িত্বরত সামন্তা বিওপির বিজিবি টহল দল বিএসএফের এই অনৈতিক তৎপরতা সঙ্গে সঙ্গেই শনাক্ত করে ফেলে। ভারতীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও তাদের মনোভাব বুঝতে পেরে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে সীমান্তের শূন্যরেখায় শক্ত অবস্থান নেন এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে সরাসরি বাধা প্রদান করেন। বিজিবির এমন অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ তাদের পুশ-ইনের চেষ্টা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
বিজিবি জানায়, বিজিবির শক্ত প্রতিরোধের কারণে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ওই ৬ জন ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, "সামন্তা বিওপির টহল দলের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে বিএসএফের অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা গেছে। বিএসএফের এই অনাকাক্সিক্ষত পদক্ষেপের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ পুশ-ইন ও সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
