দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনে মামলা চলাকালীন জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2026-07-20 ইং
দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনে মামলা চলাকালীন জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা চলাকালীন সময়ে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন পরে তারা ক্রয় করা জমি বুঝে নিয়েছে। 


জানা যায়, দামুড়হুদা সদরের দশমীপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে পাম্প মালিক শাজাহান আলীর নামে জমিটি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে আসছে। তবে দাবি করা হচ্ছে, শাজাহান আলী তার ছোট ভাইয়ের নামে ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরে শাহাজান আলীর ছোট ভাই সেলিম হোসেন ওই ৯ শতক জমি আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল আলম মিল্টন ও জুড়ানপুর গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী মৃত চাঁদ আলীর ছেলে রুস্তম আলীর নিকট বিক্রি করেন।


তবে শাহাজান আলী বিষয়টি অস্বীকার করেন বলেন, ‘আমার এই জমি নিয়ে আদালতে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক আমাকে মারধর করে পাম্প এলাকা থেকে বের করে দেয় এবং চলমান প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে তারকাটার বেড়া দিয়ে জায়গা ঘিরে নেয়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আমি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা চলে যায়।’


তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আবার তার লোকজন নিয়ে সিমেন্টের পিলার পুঁতে তারকাটার বেড়া দিয়ে দেয়। আমি সরকারের কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ১৮ শতক জমি ক্রয় করেছি। এর মধ্যে ৯ শতক জমি তার ছোট ভাই জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নিয়েছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রতিপক্ষ জমির অধিকার প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি আইন মেনে জমি ছেড়ে দেব। কিন্তু মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক দখল নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’


এ বিষয়ে আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল আলম মিল্টন বলেন, ‘সেলিম হোসেন হচ্ছে শাজাহানের আপন ছোট ভাই। আমি এবং রুস্তম আলী সেলিমের নিকট থেকে বৈধভাবে ৯ শতক জমি ক্রয় করেছি। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার থানায় বৈঠক হয়েছে। আমরা বৈধভাবে জমি কিনেছি এবং জমির দখলও বুঝে নিয়েছি। পাম্পের তেলের সংরক্ষণাগার বা ট্যাংক আমাদের কেনা জমির মধ্যে পড়েছে। শাজাহানের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তিনি চাইলে জমিটি আমাদের কাছ থেকে কিনে নিতে পারেন, অথবা ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এই ৯ শতক জমি শাজাহানের বাবা ও ছোট ভাই উপস্থিত থেকে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।’


এ বিষয়ে শাজাহানের ছোট ভাই সেলিম হোসেন বলেন, ‘প্রথমে জমিটি বড় ভাইয়ের নামে কেনা হলেও পরে বড় ভাই আমার নামে ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে আমি সেই জমি শরিফুল আলম মিল্টন ও রুস্তম আলীর কাছে বিক্রি করি এবং বাবার উপস্থিতিতে তাদের কাছে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি।’


স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমিতে তারকাটার বেড়া দেওয়ার ফলে ফিলিং স্টেশনে বড় ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।


দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জমি দখল করা নিয়ে এমন একটা ঘটনা আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ওখানে কোনো আপত্তিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশ শান্ত আছে। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)