গ্যাস সংকট নিরসনে সঠিক প্ল্যান দরকার

আপলোড তারিখঃ 2026-07-19 ইং
গ্যাস সংকট নিরসনে সঠিক প্ল্যান দরকার ছবির ক্যাপশন:

রাজধানী ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে গ্যাসের নিম্নচাপ ও জরুরি মেরামতের কারণে বাসাবাড়িতে দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। ফলে রান্নার জন্য নগরবাসীকে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, সিলিন্ডার গ্যাস বা লাকড়ির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ ছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। প্রায়ই জরুরি মেরামত কাজের জন্য মূল লাইনে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত রাখতে হচ্ছে। 

এছাড়া পাইপলাইনে ছিদ্র বা লিকেজের কারণেও গ্যাসের চাপ কমে যায়।সামগ্রিকভাবে চাহিদার তুলনায় এলএনজি আমদানিতে ঘাটতি এবং দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে জাতীয় গ্যাসে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। দিনের বেলায় তো নয়ই, অনেক এলাকায় গভীর রাতেও গ্যাসের দেখা মিলছে না। তাই রাজধানীবাসী এখন বিভিন্ন বিকল্প উপায়ের সন্ধান করছে।গ্যাসের বিকল্প হিসেবে নগরবাসী ইলেকট্রিক চুলা (ইনডাকশন), রাইস কুকার এবং সিলিন্ডারের সাহায্য নিচ্ছে। 

সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্না করতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরের খাবারের দোকান বা রেস্তোরার ওপর নির্ভর করছে।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাসের সংকট যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে যখন রান্নার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই বেশিরভাগ এলাকায় গ্যাস থাকে না বা থাকলেও চাপ থাকে একেবারেই কম, যা দিয়ে রান্না চলে না। ফলে অনেক পরিবারকে গভীর রাতে কিংবা ভোরে উঠে রান্না করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছে খাবার কিনে খেতে।

 নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও স্বাভাবিক সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।রাজধানীর মিরপুর ১, ২, ১ ও ১৩ নাম্বার, পাইকপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর, মালিবাগ, আদাবর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে দুপুর কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। গ্যাসের এই সমস্যার কারণে নগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় ক্রমেই আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। 

গত এক বছরে রেকর্ড সাত দশমিক ৮৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করেও গ্যাসের সংকট কাটেনি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতির কারণে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকি বেড়ে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক চাপ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গতি না থাকায় আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দ্রুত নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া টেকসই সমাধানের আর কোনো পথ নেই। সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে, বন্ধ করতে হবে গ্যাসের অপচয়।


সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)