ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী একটি চত্বর অবশেষে অপসারণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পৌরসভা এই চত্বরটি সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে সড়কের মাঝখানে এই চত্বরটি অবস্থিত ছিল। নামে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ বলা হলেও বাস্তবে সেখানে বীরশ্রেষ্ঠের কোনো মূর্তি বা অবয়ব ছিল না। ছিল শুধু একটি বড় পাথর। ভাস্কর্যের আদলে এই উঁচু পাথর থাকার কারণে সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের গাড়ি দেখতে চালকদের সমস্যা হতো। কোনো শৈল্পিক অবয়ব ছাড়াই প্রকল্পের টাকা লুটপাটের জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল বলে অনেকের অভিযোগ।
চুয়াডাঙ্গার বাসচালক আবির মাহমুদ বলেন, ‘এই পাথরের জন্য মোড়ে গাড়ি ঘোরাতে অনেক সমস্যা হতো। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে, মানুষ আহত হয়েছে। এটা সরিয়ে দিলে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।’ শুধু যানজটই নয়, চত্বরটি ঘিরে গড়ে উঠেছিল নানা অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া। টার্মিনালের সময় নিয়ন্ত্রক আবু জাফর অভিযোগ করেন, চত্বরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে প্রকাশ্যে প্রস্রাব-পায়খানা করা হতো। ঘিঞ্জি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সন্ধ্যার পর পাথরের আড়ালে বসে মাদকাসক্তরা গাঁজা সেবন করতো। ফলে পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান জানান, ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও তৎকালীন পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিণ্টু এটি উদ্বোধন করেন। ওই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু করা হলেও পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। বর্তমানে ভাস্কর্য নির্মাণের সেই ফাইলটি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ খুঁজে পাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।
ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জনদুর্ভোগ লাঘব ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধে চত্বরটি অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল বলেই সে সময় আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন হয়তো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ জানান, সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য তৈরি হচ্ছে বা ভাস্কর্য ছিল বলে শুনিনি। তাই এটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন তথ্য দেখেছি। তবে সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য ছিল না বা তৈরি হয়নি, যদি ভাস্কর্য তৈরি হতো তবে আমরা জানতাম। এটা নিয়ে ফ্যাসিস্টরা নানা ভাবে সমালোচনা ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিয়ে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
