ছবির ক্যাপশন:
ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এসময় শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই মানেই আবু সাঈদ, জুলাই মানেই মুগ্ধ। অন্যায়, অপশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাইয়ের আন্দোলন। তিনি বলেন, অতীতের বর্বরতার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলন- উভয়ই দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইয়ের যোদ্ধারা সবাই দেশের গর্ব। কাউকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্নীতি, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চেতনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত বাংলাদেশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে তা সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। চুয়াডাঙ্গাকে দেশের অন্যতম অগ্রসর জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, জুলাই আন্দোলন এক দিনে সৃষ্টি হয়নি; দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে এটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ১৬ জুলাই আবু সাঈদ, মো. ওয়াসিম আহমেদসহ ছয়জনের শহিদ হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায় এবং গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের জন্য কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের যোদ্ধারা রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে আগ্রহী জুলাই যোদ্ধাদের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় তিনি সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং আন্দোলনের খোঁজখবর নিয়মিত জানাতেন।
সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহিদ, আহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার সবাই জাতির শ্রদ্ধার পাত্র। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে প্রশাসন, সরকার ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ থেকেই এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম। এসব সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার এ লক্ষ্যে জনগণের পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবিছ উদ্দিন, জুলাই শহিদ শুভর বাবা আবু সাইদ, শহিদ মাসুদের সহধর্মিণী সাফা, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, চুয়াডাঙ্গা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তানভির রহমান অনিক, সদস্যসচিব রনি বিশ্বাস, জুলাই যোদ্ধা হাসনা জাহান খুশবু, সিয়াম হোসেন মুগ্ধসহ রাজনৈতিক ও জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার দুই শহিদ পরিবারের হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে শুভেচ্ছা সম্মানী প্রদান করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদরা জাতির গর্ব। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তারা আত্মত্যাগ করেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই হতে হবে সবার অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দামুড়হুদা:
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান কাজল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার নীলিমা আক্তার হ্যাপি, দামুড়হুদা পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা ফাহমিদা রহমান, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব অনিক রাশেদ এবং উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, দুর্নীতি, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। শহিদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মতো সাহসী তরুণদের আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়েছে। শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা, আহতদের পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তারা উল্লেখ করেন। সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান, দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম, দামুড়হুদা মডেল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মামুনুর রশিদ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধী সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
জীবননগর:
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান সেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন, এনসিপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান এবং জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিয়ার রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী আল আমীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন।
মেহেরপুর:
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় ও জেলা পরিষদ প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিলটন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, জেলা বিএনপি, এনসিপি, সিভিল সার্জন কার্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বিসিক, মেহেরপুর সরকারি কলেজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
গাংনী:
গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়ার রহমান। এসময় বক্তব্য রাখেন গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম সোনা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম, কেন্দ্রীয় এনসিপির মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শাকলি আহমাদ, গাংনী প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
হরিণাকুণ্ডু:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হয়। সকালে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহিদ রাকিবুল হোসেনের কবরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। পরে কবর জিয়ারত ও তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিশ বিন হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন এবং উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসাইন। এছাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও হরিণাকুণ্ডু প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা রিপন, শহিদ রাকিবুল হোসেনের পিতা-মাতা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে শহিদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দেশের সার্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
