ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ফজলুল হক খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পৌর এলাকার পশুহাট থেকে ৩ কিলোমিটার ফজলুল হক খালের দখল হওয়া বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালের বর্তমান অবস্থা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, অবৈধ দখল এবং পুনঃখননের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘আলমডাঙ্গা পৌর শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে ফজলুল হক খাল পুনঃখনন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই খালটি শুধু একটি পানি নিষ্কাশনের পথ নয়, এটি পৌরবাসীর স্বস্তি ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট ও দখলের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হোক এবং এটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হোক। জনগণের স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য আলমডাঙ্গা গড়ে তুলতে সক্ষম হব- এই প্রত্যাশা করছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই খাল দিয়েই বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে দখল ও ভরাটের কারণে খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার, আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল, উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদুর রহমান পলাশ, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খাঁ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আক্তার হোসেন জর্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর হক পিণ্টু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাগরিবুর রহমান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মীর আসাদুজ্জামান উজ্জলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরে জিকে সেচ প্রকল্পের সাত কপাট নামক স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন শরীফুজ্জামান শরীফ। এসময় তিনি আরও বলেন, গাছপালা আমাদের পরম উপকারী বন্ধু, পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে সকলের উচিত বেশি বেশি গাছ লাগানো। তাই আসুন সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে একসাথে বলি, বেশি বেশি গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই।
