৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স আবেদন না করলে ব্যবস্থা- মালিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক

আপলোড তারিখঃ 2017-11-23 ইং
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স আবেদন না করলে ব্যবস্থা- মালিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক ছবির ক্যাপশন:
বিনা লাইসেন্সেই চলছে চুয়াডাঙ্গার ২২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক-পরিচালকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘জেলার অন্তত ২২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নেই; আর অধিকাংশই অপরিকল্পিত। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী করতে হবে। তা না হলে ১ জানুয়ারি’১৮ থেকে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক মালিক-পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স না করতে পারলে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। এ নির্দেশ অমাণ্য করলে ওই সকল ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সিলগালা করা হবে এবং মালামাল বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হবে।’ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. খাইরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিক-পরিচালকগণ। এদিকে, চুয়াডাঙ্গার অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স থাকলেও, নেই প্রয়োজনীয় জনবল, কক্ষ ও সরঞ্জামাদি। অবৈধভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এদের ল্যাব ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকলেও অন্যের স্বাক্ষর করে রাখা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের খামখেয়ালিপনা আর উৎকোচ বাণিজ্যের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে রোগী সাধারণের জীবন। এ সমব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কারণে হাসপাতাল এলাকায় দিনে দিনে বাড়ছে দালালদের প্রভাব। চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্তমানে লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ২২টি। এগুলো হলো, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টার, আলমডাঙ্গার খান লাইফ কেয়ার, হারদী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হারদীর এসএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হারদীর এমএম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গা কলেজ রোডের খোন্দকার প্যাথলজী, আলমডাঙ্গার সুবর্ণা প্যাথলজী, আনন্দধাম নার্সিং হোম, আলমডাঙ্গা হাফিজ মোড়ের জ্যোতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গা হাজী মোড়ের প্যানরোমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা কাস্টম্স মোড়ের সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কার্পাসডাঙ্গার রোজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জীবননগর হাসপাতাল রোডের ক্রিসেন্ট ক্লিনিক, জীবননগর হাসপাতাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মিতু ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আন্দুলবাড়িয়ার মেঘনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জীবননগর হাসপাতাল রোডের আদর্শ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসাদাহ বাজারের হাসাদাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও ক্লিনিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন মানছে না চুয়াডাঙ্গার অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। ১৯৮২ সালের মে মাসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও ক্লিনিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ওই অধ্যাদেশে মেডিকেল কনসালটেন্সির জন্য ফি নির্দিষ্ট করে দেয়াসহ ক্লিনিকগুলো কোনো ধরনের অপারেশনের জন্য কত টাকা নেবে এবং ল্যাবরেটরি ফি বেঁধে দেয়া হয়। এমনকি অধ্যাদেশের সাত নম্বর অনুচ্ছেদে বাধ্যতামূলকভাবে যেসব চার্জ ও ফি সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের চেম্বার ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিতে ডিসপ্লে করার বিধান আরোপ করা হয়। ওই অধ্যাদেশে প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপনের লাইসেন্স পেতে ৭টি শর্ত আরোপ করা হয়। এতে যথাযথ স্থানসহ রোগীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, প্রত্যেক রোগীর সিটের জন্য ৮ বর্গফুট জায়গা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অপারেশন থিয়েটার, জীবন রক্ষাকারী ও অত্যাবশ্য ওষুধের পর্যন্ত সরবরাহ এবং রোগীর অপারেশনে ট্রিটমেন্ট ও তত্ত্বাবধানের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় ৩৬ ধরনের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং প্রতি ১০ বেডের জন্য একজন করে সার্বক্ষণিক রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল প্রাকটিশনার, ২ জন নার্স এবং ১ জন সুইপার নিয়োগ বাধ্যতামূলক। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা জেলার ক্লিনিক হাসপাতালগুলোতে বিধিমোতাবেক জনবল নেই। অধিকাংশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালই জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, দীর্ঘদিন পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের উদ্যোগ নেয়ায় জেলা প্রশাসককে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার সূধীমহল।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)