কুড়ুলগাছিতে ৫ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ১৫ পরিবার পানিবন্দী

কালভার্ট বন্ধ থাকায় বিপাকে মাছুরার পরিবার

আপলোড তারিখঃ 2026-07-14 ইং
কুড়ুলগাছিতে ৫ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ১৫ পরিবার পানিবন্দী ছবির ক্যাপশন:

গত শুক্রবার ভোরে টানা ৫ ঘণ্টার বৃষ্টিতে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের বুইচিতলা গ্রামে এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে আকস্মিক সৃষ্টি এই জলাবদ্ধতায় গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় গত কয়েকদিন ধরে এসব পরিবারে চুলা জ্বলছে না। প্রতিবেশীদের দেওয়া সামান্য খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই মানুষগুলো। এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মানবিক ও অসহায় অবস্থায় পড়েছে ওই এলাকার বাসিন্দা মাছুরা খাতুন ও তার পরিবার।


সরেজমিনে বুইচিতলা গ্রামে দেখা যায়, চারদিকে থৈ থৈ করছে নোংরা পানি। মাছুরা খাতুনের থাকার ঘর থেকে শুরু করে রান্নাঘর ও গোয়ালঘর এখন পানির নিচে। এই অসহায় পরিবারটি নিজেদের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি তাদের গৃহপালিত গরু-ছাগল নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। অবলা এই প্রাণিগুলোকে কোনো নিরাপদ স্থানে রাখার জায়গা না পেয়ে বসতঘরের ভেতরেই চৌকি বা মাচা উঁচু করে কোনোমতে আগলে রেখেছেন। গোখাদ্যের তীব্র সংকটের পাশাপাশি পুরো পরিবারটি এখন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে।


অশ্রুসজল চোখে মাছুরা খাতুন বলেন, ‘বাড়ির ভেতর পানি থৈ থৈ করছে। বুড়া-বুড়ি আর গরু-ছাগল নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। রান্না করার কোনো উপায় নেই। দু-তিন দিন ধরে প্রতিবেশীরা যা একটু মুখে তুলে দিচ্ছে, তাই খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।’


স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি কালভার্ট ছিল, যা দিয়ে বৃষ্টির পানি সহজেই নেমে যেত। কিন্তু সম্প্রতি এক প্রতিবেশী কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বহুতল ভবন (বিল্ডিং) নির্মাণ করায় পানি বের হওয়ার একমাত্র পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। কালভার্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নামার কোনো বিকল্প পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং গত শুক্রবারের টানা ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ না পেয়ে মাছুরা খাতুনসহ ১৫টি পরিবার এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।


জলাবদ্ধতার শিকার পরিবারগুলোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধভাবে বন্ধ করা কালভার্টটি উন্মুক্ত করা হোক অথবা পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ড্রেন বা বিকল্প পথ তৈরি করা হোক। তা না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই এই এলাকা স্থায়ী অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হবে।


এই বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, "বুইচিতলা গ্রামে কয়েকটি পরিবারের পানিবন্দী হওয়ার খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে সরজমিনে পরিদর্শনে যাই এবং ভুক্তভোগীদের খোঁজখবর নিই। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, পূর্বে ওই স্থানে থাকা কালভার্টটি বন্ধ থাকায় পানি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় পানিবন্দী পরিবারগুলোর দাবি, পাশের বাসিন্দা আলাল পালের জমির ওপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প পথ তৈরি করা সম্ভব। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু তিনি তার জায়গার ওপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন। সর্বশেষ আমি তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহাদয়ের স্মরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি


ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং স্থানীয় সচেতন মহল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। মাছুরা খাতুনের মতো অসহায় পরিবারগুলোকে এই চরম মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)