ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে একটি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবারের ঘটনার পর গতকাল রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। পরে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জানা গেছে, গত শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জামায়াতের উদ্যোগে ‘তালিমুল কোরআন’ শীর্ষক একটি নারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। উপজেলা বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই মডেল মসজিদের মিলনায়তনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এ কারণে তারা প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের নেতাদের দাবি, নিয়ম মেনেই ধর্মীয় প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বাধা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এ ঘটনার পর ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মণ্টু মিয়াকে নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বিএনপির অভিযোগ, ওই পোস্টটি শেয়ার করেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি সুমন। পরে ক্ষুব্ধ বিএনপির কর্মীরা তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
গতকাল রোববার বিকেলে ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে সুমনকে মারধরের বিষয়টি উত্থাপন করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বৈঠকটি কার্যত ভেস্তে যায়। পরে ‘তালিমুল কোরআন’ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও উপজেলা শহরে জড়ো হন। এতে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, ‘মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান হতে পারে না। পাশাপাশি ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ অন্যদিকে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ধর্মীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অযথা বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ-জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলমসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, মডেল মসজিদে যে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলা ছিল। এ কারণে তাকে মৌখিকভাবে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কীভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
