ছবির ক্যাপশন:
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জেলায় কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ক্ষয়-ক্ষতি ও আগামীতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় বড় ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এস. এম. আশিস মোমতাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি অঞ্চল সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় কয়েকটি নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা একটি ভিন্ন বিষয়। বর্তমানে পৌর এলাকার বাইরে অন্যান্য উপজেলায় জলাবদ্ধতার কোনো তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে আসেনি। তবে জেলার কোথাও জলাবদ্ধতা বা এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাস্তার পাশে যাদের পুকুর রয়েছে, তাদের অবশ্যই পুকুরের চারপাশে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা (প্যারাসাইকিং) গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পুকুরের কারণে রাস্তা ভেঙে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট পুকুর মালিককেই রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি জেলার ৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র বসবাস উপযোগী রয়েছে কি না, তা দ্রুত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অবস্থান করবেন। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করতে হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় জেলা প্রশাসক আরও ঘোষণা দেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হলো। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কেউ ছুটিতে যেতে পারবেন না।
ত্রাণসামগ্রীর মজুদ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক জানান, জীবননগরে বর্তমানে ৩৯ প্যাকেট, চুয়াডাঙ্গা সদরে ৩০ প্যাকেট এবং আলমডাঙ্গায় ১৫ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। দামুড়হুদায় বর্তমানে কোনো শুকনো খাবার নেই। ইতোমধ্যে জীবননগরে ২ প্যাকেট এবং চুয়াডাঙ্গা সদরে ৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে। ওই ৫ লাখ টাকা দিয়ে শুকনো খাবার ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন করা যায়, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। এমনকি অনেক বাসাবাড়ির ফুলের টবেও পানি জমে থাকে, যা ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। শুধু সভা-সেমিনার করলেই হবে না, সমাজের মানুষকে সচেতন করে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ সরোয়ার বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা অ্যানি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিমসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
