ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করায় বিএনপি নেতা বাবুর আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র ও মানহানিকর অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে হুদাপাড়া গ্রামে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মো. বাবুর আলী তার বক্তব্যে বলেন, গত মঙ্গলবার হুদাপাড়া গ্রামে সংবাদ সম্মেলনের নামে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বর) নুর মোহাম্মদ ভগুর নেতৃত্বে তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং আমার মানহানি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি হুদাপাড়া গ্রামের বিএনপির নেতা-কর্মী ও যুবসমাজকে সাথে নিয়ে গ্রামকে মাদক মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছি। বিভিন্ন সময় মাদকসেবীদের মাদকসহ ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছি- এটাই আমার অপরাধ। এখন এলাকার কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আপনারা সুষ্ঠু তদন্ত করুন; তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে কারা প্রকৃতপক্ষে মাদকের সাথে জড়িত।’
বিগত সরকারের আমলের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বাবুর আলী বলেন, বিগত ১৭টি বছর আমি শুধু বিএনপি করার কারণে মিথ্যা মামলা ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। হুদাপাড়ায় বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখাই আমার অপরাধ। এছাড়া স্থানীয় আছেহার নামের এক ব্যক্তির কাছে আমার বৃদ্ধ মা টাকা পান। সেই টাকা যাতে দিতে না হয়, সেজন্যই মেম্বরের সাথে হাত মিলিয়ে এই মিথ্যাচার করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করলে হুদাপাড়ায় কার কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে এবং কে মাদকের গডফাদার সব বেরিয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাবুর আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চরম নির্যাতিত একজন নেতা। সে দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া ছিল, তার ভাই প্রবাস থেকে টাকা পাঠিয়ে তার পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বাবুর বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এসময় বাবুর আলীর স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভগু মেম্বর আমাদের পরিবারটিকে শেষ করে দিয়েছে। আমরা এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে সঠিক ও ন্যায়বিচার চাই।’ সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গ্রামের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
