ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরে শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বুধবার দুপুর প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়ার বাসিন্দা শামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে ঢুকে তিনি প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন। উপস্থিত শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাকে নিবৃত করে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সমাবেশ চলাকালে সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক একটি চড় দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাবা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, ‘একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের আদর যেমন করি, প্রয়োজন হলে শাসনও করতে হয়। একটি চড় দেওয়ার কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, তা কখনো ভাবিনি। এখন বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের পাশে আছি।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক শিক্ষা অফিসে জানাতে পারতেন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত শামসউর রহমান শুভ বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে মেয়েকে কান্নাকাটি করতে দেখি। সে জানায়, প্রধান শিক্ষক তাকে মেরেছেন। রাগের মাথায় স্কুলে গিয়ে আমিও প্রধান শিক্ষককে চড় মেরেছি। এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।’ তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত ১১টা নাগাদ ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম মামলা দায়েরের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অবস্থান করছিলেন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী ওই প্রধান শিক্ষিকা অভিযোগ করতে এসেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
