ছবির ক্যাপশন:
‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথকভাবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ঋণ ও চারা বিতরণ, কিশোরী সংঘের সদস্যদের উৎসাহ বোনাস এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
গতকাল সোমবার সকালে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) চুয়াডাঙ্গা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভার শুরুতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে গ্রামীণ জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল গ্রাম গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভাপতির বক্তব্যে নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, পল্লী উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল গ্রাম গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মান বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, ব্র্যাকের সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ন রুগ্গা, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, উপকারভোগী খাদিজা বেগম ও শিক্ষার্থী উম্মে হালিমা।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা জাকির হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মণ্ডল, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান, সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার আমিনুল ইসলাম, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উপকারভোগী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ক্ষুদ্র ঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের চেক, গাছের চারা এবং পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘের তিন সদস্যের মধ্যে উৎসাহ বোনাসের চেক বিতরণ করা হয়।
দামুড়হুদা:
‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে দামুড়হুদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দামুড়হুদা শাখার উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুন নাহার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নায়েব আলী, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম রসূল এবং দামুড়হুদা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মামুন অর রশিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নে পল্লী উন্নয়নের বিকল্প নেই। দেশের সার্বিক উন্নয়নে গ্রামকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
জীবননগর:
জীবননগরে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার জুয়েল শেখ, উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মুশফিকুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জাকির উদ্দিন মোড়ল, শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মো. জামিল আখতার।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক, পল্লী উন্নয়ন ও বিআরডিবির পরিচালক আব্দুল আলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনসারুলসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। আলোচনা সভার আগে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
হরিণাকুণ্ডু:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতেও উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপনের নেতৃত্বে র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ও দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার, উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার। প্রধান অতিথি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মোট ৪ লাখ টাকা এবং ১৩ জন স্থানীয় উদ্যোক্তার মধ্যে মোট ৪০ লাখ ৩০ হাজার টাকার ঋণ সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক উদ্যোক্তার হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সবশেষে আন্দুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
