ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের কেদারনগর গ্রামে গ্রাম্য সালিশ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে মাদক সেবন, বিক্রি, বহন বা কোনো ধরনের মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেদারনগর পশ্চিমপাড়া মহল্লায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে এ গ্রাম্য সালিশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেদারনগর গ্রামের মো. লাল্টু রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এর আগে তিনি কয়েকবার কারাগারেও ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত সবার সামনে জাহাঙ্গীর আলম লিখিত অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো ধরনের মাদক সেবন, বিক্রি, বহন কিংবা মাদকসংক্রান্ত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। পাশাপাশি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অতীতের ভুল বুঝতে পেরেছি। এখন পরিবার ও সমাজকে নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে চাই। ভবিষ্যতে আর মাদকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখব না।’
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেও মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। তারা আশা প্রকাশ করেন, জাহাঙ্গীর আলম তার দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব জীবন, কেদারনগর ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি বদিরুল ইসলাম, কৃষকদলের সেক্রেটারি উজির আলী, আনারুল ইসলাম, সাহেব আলী, কালাম, সালমান, সাইফুল, ছাত্রদল নেতা রিদয় আহাম্মেদ, আমিরুল, ডালিম, আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
