ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের মহেশপুর এরিয়া অফিসের অধীন আর্স বাংলাদেশ (অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল সোসাইটি বাংলাদেশ)-এর জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক কামাল পারভেজ রিপনের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাহক তাদের সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অভিযুক্ত কামাল পারভেজ রিপন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে।
শাখা অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গ্রাহকদের অগ্রিম কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করে তা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চারজন গ্রাহকের নামে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে সেই অর্থও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বর্তমানে আর্স বাংলাদেশের চৌগাছা জোনাল অফিস তদন্ত করছে।
ভুক্তভোগী সঞ্চয়ী গ্রাহক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছিলিন্দাপাড়া গ্রামের সাথি আক্তার জানান, শাখা ব্যবস্থাপক তার কাছ থেকে অগ্রিম কিস্তির নামে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। একই অভিযোগ করেন কাকলি খাতুন। তিনি বলেন, রিপন তার কাছ থেকেও ৩৩ হাজার টাকা নিয়েছেন। আন্দুলবাড়ীয়া শাখার অ্যাকাউন্টস অফিসার জলি খাতুন ও কবির হোসেন বলেন, ‘শাখা ব্যবস্থাপক সবার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এমন ঘটনা ঘটাবেন, তা আমরা ভাবিনি। আমরা কখনো কোনো গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করিনি। অথচ এখন তার অপকর্মের দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে আর্স বাংলাদেশের চৌগাছা জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজার মুকুল শহীদ প্রথমে বলেন, ‘কামাল পারভেজ রিপন টাকা নিয়ে গেছে। তবে মোট কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।’ পরে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। যদি কোনো অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে গ্রাহকরা শতভাগ টাকা ফেরত পাবেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, মূল অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও আন্দুলবাড়ীয়া শাখার অন্য চার কর্মীর ওপর ওই অর্থ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী কর্মীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়েছে এবং কয়েকজন মাঠকর্মীর মোটরসাইকেলও আটকে রাখা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আর্স বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
