ছবির ক্যাপশন:
সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে ১৬৪ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত এবং ৬ হাজার ৬২৬ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতির শতকরা হার ২ দশমিক ৯০ ভাগ। তবে কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার সহকারী কমিশনার শাকিল মো. ছফিউল্লাহ স্বাক্ষরিত সমন্বিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দেখা যায়, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। তবে পরীক্ষার বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে কাউকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্রের প্রবেশপথে রোভার স্কাউট, বিএনসিসি সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তারা পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি শেষে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) ছাড়া পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নয়- এমন কোনো সামগ্রী কেন্দ্রের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
চুয়াডাঙ্গায় উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ১২টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৭৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৬০২ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ১৩১ জন। অনুপস্থিতির শতকরা হার ২ দশমিক ২৮ ভাগ। আলিম পরীক্ষায় ৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪২ জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৩২৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ১৭ জন। অনুপস্থিতির শতকরা হার ৪ দশমিক ৯৭ ভাগ।
দ্বাদশ শ্রেণির এইচএসসি বিএমটি ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৫১ জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৫৩৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ১৬ জন। অনুপস্থিতির শতকরা হার ২ দশমিক ৯০ ভাগ। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বাংলা প্রথম পত্র, আলিম পরীক্ষার্থীরা কুরআন মাজীদ এবং ভোকেশনাল ও বিএমটি শাখার পরীক্ষার্থীরা বাংলা দ্বিতীয় পত্রে অংশ নেয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলাব্যাপী অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী শোভা বলেন, ‘বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা ভালো হয়েছে। তবে নৈর্ব্যক্তিক অংশের কিছু প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন মনে হয়েছে।’ অভিভাবক পূর্ণিমা সাহা বলেন, ‘মেয়ের পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রে এসেছি। সে অনেক পরিশ্রম করেছে। আশা করছি ভালো ফলাফল করবে।’ অপর পরীক্ষার্থী সোহান বলেন, ‘এবার সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে। আমার কাছে প্রশ্নগুলো গত বছরের তুলনায় কিছুটা সহজ মনে হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলো কেমন হয়, তার ওপরই ফলাফলের বিষয়টি নির্ভর করবে।’
এদিকে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় দর্শনা সরকারি কলেজ, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ এবং দামুড়হুদা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ- এই তিনটি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থীপরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ৪০ জন। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, দর্শনা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৮৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ৮ জন অনুপস্থিত ছিল। আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৬৪১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ২৯ জন। এছাড়া দামুড়হুদা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ৫ জন অনুপস্থিত ছিল।
আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রেহেনাকুল ইসলাম বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।’ অন্যদিকে, মেহেরপুর জেলায় সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৯১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় ৩টি কেন্দ্রে ৬৭০ জন, এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ২টি কেন্দ্রে ২৪০ জন এবং আলিম পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে ১৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
