ছবির ক্যাপশন:
টেন্ডার আহ্বান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রচলিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে আলমডাঙ্গা উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ১৮টি প্রকল্প পছন্দের ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পগুলো জামায়াতের নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের নামে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত সোমবার উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এডিপির অতিরিক্ত চতুর্থ কিস্তিতে আলমডাঙ্গা উপজেলা ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা বা তার বেশি মূল্যের কারিগরি উন্নয়ন প্রকল্প টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিধান রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহণেরও প্রচলিত ব্যবস্থা রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এসব বিধান অনুসরণ না করেই ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চুয়াডাঙ্গার অন্য তিন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রকল্প টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলমডাঙ্গায় তা অনুসরণ করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ জুন প্রকল্পগুলো প্রাথমিকভাবে বিভাজনের পর ১৪ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলন প্রস্তুত করে আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) পদ্ধতিতে জুন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ ৭ ও ১৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রকল্পগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। তবে পরে ১৮টি প্রকল্প অনুমোদনের পর ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে কালিদাসপুরের মেসার্স নাসিমা এন্টারপ্রাইজ, হাউসপুরের শম্পা বিল্ডার্স, আলমডাঙ্গার মেসার্স সাত্তার এন্টারপ্রাইজের নামে দুটি এবং মো. হাফিজুর রহমানের নামে দুটি প্রকল্প।
অভিযোগ রয়েছে, হাফিজুর রহমান একজন হোটেল ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সর্বশেষ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।
অনুমোদিত ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪টি আরএফকিউ এবং চারটি প্রকল্প পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী ও বাইসাইকেল বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার সরবরাহ, বিভিন্ন ইউনিয়নে সোলার লাইট স্থাপন, রাস্তা উন্নয়ন ও সোলিং, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ এবং ব্রিজ সংস্কারের কাজ।
টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প বরাদ্দের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে গত সোমবার উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভয়াবহ অনিয়মের মাধ্যমে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে সব প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি কিংবা নিরপেক্ষ কোনো জনপ্রতিনিধিকে একটি প্রকল্পও দেওয়া হয়নি। তারা আরও দাবি করেন, এখনো কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, অথচ জুন ক্লোজিং শেষ হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের আশ্বাস দিয়েছেন, কাজ সম্পন্ন না হলে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না এবং সরকারি অর্থের অপচয় হতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ বলেন, ‘২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে এডিপির অতিরিক্ত চতুর্থ কিস্তির আওতায় প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে কয়েকজন জামায়াত নেতা নির্দিষ্ট ঠিকাদার নির্বাচন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটেশন আহ্বান করে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না; সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করে কাজ করা হয়েছে। বিস্তারিত ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে জেনে নেন।’
