ছবির ক্যাপশন:
‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়ে শহরের কোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান। এসময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারিমন আক্তার বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের বহুমুখী ক্ষতি সম্পর্কে শিশু-কিশোর, তরুণ ও অভিভাবকদের আরও সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কৌশলে তরুণদের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রলোভনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করেন। ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তামাক সেবন করেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ ধূমপান করেন এবং ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। এছাড়া দেশের ৩৯ শতাংশ বা প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ অধূমপায়ী পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়। পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য পূর্বের ৩০০ টাকার জরিমানা বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
আলোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিন্দ্র কুমার মণ্ডল, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাবেরুজ্জামান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
