ছবির ক্যাপশন:
দেশব্যাপী শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ ও অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনের পাশাপাশি শিশু পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তাও প্রদান করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব উপজেলা, পৌরসভা ও গ্রামীণ এলাকার নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অন্ধত্ব প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এবারের ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী কোনো শিশুই যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই জেলার শতভাগ শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. শামীমা ইয়াসমিন, এসআইএমও ডা. খন্দকার ইমরান হাসিব, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলমডাঙ্গা পৌরসভায় উপস্থিত থেকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ান। উপজেলার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার। তিনি বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সুস্থ শিশু, রাতকানা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উপজেলার সকল অভিভাবকের প্রতি নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান। উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, টিকাদান সুপারভাইজার লিমন হোসেন ও টিকাদানকারী মো. আমিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যমের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি সুস্থ, সবল ও অপুষ্টিমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়নে অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
