ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গতকাল রোববার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) শারমিন আক্তার। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি এম তারিক-উজ-জামান।
সভায় জানানো হয়, জেলায় মোট ১২টি কেন্দ্রে ৭ হাজার ৫৮৪ জন এইচএসসি (সাধারণ) পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এছাড়া ২টি কেন্দ্রে ২৩৮ জন (ভোকেশনাল), ৩টি কেন্দ্রে ৩৮৭ জন (আলিম) এবং বিএম শাখার ১ হাজার ২৩৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন এবার কঠোর ভূমিকায় থাকবে। কেন্দ্র সচিবদের মাধ্যমে যথাযথ নিয়মে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও বিতরণ করতে হবে। তিনি বলেন, এবার সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে কোথাও প্রশ্নফাঁস কিংবা এ ধরনের কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়লে, তা পুরো দেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, সেসব কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হবে না। পরীক্ষাকালীন কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আগামীকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় তিনি কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং ধারণকৃত ফুটেজ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কক্ষে দেয়ালঘড়ি, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের আগে কঠোর তল্লাশির নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই অনাকাক্সিক্ষত বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। পরীক্ষা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সহকারী কমিশনার শাকিল মো. ছফিউল্লাহ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থী বিশেষ কারণে নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে পৌঁছালে এবং যুক্তিসংগত কারণ থাকলে ৩০ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও জানান, সাংবাদিকরা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে কোনো পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি থাকবে না। একই সঙ্গে ট্যাগ অফিসাররা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বলেন, পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ কিংবা পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করা যাবে না। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সাংবাদিকরা কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া পরীক্ষা শেষে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, সহকারী কমিশনার দুলাল সরকার, সুব্রত দেবনাথ ও জমির উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিমসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
