ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্প। পরে উদ্ধারকৃত অর্থ প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বোয়ালিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী আলী হোসেনের ছেলে সাজিব হোসেন কর্মসূত্রে সৌদি আরবে অবস্থানকালে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ছেলেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার আশায় আলী হোসেন প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী মো. ওহিদুল ইসলাম ও তার শ্যালক পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দাবি করেন, ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিলে সাজিবকে সৌদি কারাগার থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনবেন।
তাদের কথায় বিশ্বাস করে আলী হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ওহিদুল ইসলামের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা গ্রহণের পরও অভিযুক্তরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা আলী হোসেন পরে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. শরিফুল ইসলামের শরণাপন্ন হন। তাঁর পরামর্শে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্প। এসআই মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া সম্পূর্ণ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় এবং তা ভুক্তভোগী আলী হোসেনের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তৎপরতার মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং আইনগত সেবা নিশ্চিত করতে সরোজগঞ্জ পুলিশ সবসময় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”
উদ্ধার হওয়া টাকা ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. শরিফুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
