আলমডাঙ্গায় ‘জমি জালিয়াতি’র শিকার সংখ্যালঘু সন্ধ্যা রানী

আদালতে বিচারাধীন, তদন্তের দাবি

আপলোড তারিখঃ 2026-06-23 ইং
আলমডাঙ্গায় ‘জমি জালিয়াতি’র শিকার সংখ্যালঘু সন্ধ্যা রানী ছবির ক্যাপশন:

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামের পালপাড়ায় একটা ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে দিন কাটাচ্ছেন সংখ্যালঘু এক হিন্দু বিধবা নারী সন্ধ্যা রানী (৯০)। স্বামীর রেখে যাওয়া ৭০ শতক জমি জাল দলিল আর খারিজের মাধ্যমে ছলে-বলে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। সন্ধ্যা রানী বলেন, জীবনে তিনি কখনো কোনো জমি বিক্রি করেননি, কাউকে রেজিস্ট্রিও দেননি। তবুও বিভিন্ন কাগজপত্র ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে তার জমি চলে গেছে অন্যের নামে। 


স্থানীয় ও ভূমি রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৭৯-নং বেলগাছী মৌজার আরএস খতিয়ান নং- ২১৭৮ এর অধীনে আরএস ৩৭৯৭ দাগে ৪৫ শতক ধানি জমি, আর আরএস ৪০১৩ দাগে ৫১ শতকের মধ্যে ২৫ শতক বাড়ির জমিÑএই মোট ৭০ শতক জমি নিতাই পালের নামে রেকর্ডকৃত। ওই জমি ১৯৮২ সালে রেজিস্ট্রি করে স্ত্রী শ্রী সন্ধ্যা রানীর নামে লিখে দিয়েছিলেন তার স্বামী নিতাই পাল। এতদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে খাজনাও দিয়ে আসছিলেন সন্ধ্যা রানী নিজেই।


স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একাই জমির দেখাশোনা আর খাজনা পরিশোধ করতেন তিনি। শেষবার খাজনা দিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। কিন্তু ২০১৭ সালে খাজনা দিতে গিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শুনতে পান, জমি আর তার নামে নেই। পরে জানা যায়, একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ইলা ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর তার বোন রুশিয়া খাতুনের কাছ থেকে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।


এখানেই খটকা লাগার মতো বিষয়, দলিলে লেখা আছে রুশিয়া খাতুন ১৯৭৫ সালে নিতাই পালের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন। কিন্তু রুশিয়া খাতুনের কথায়, তার জন্মই হয়েছে ১৯৭৫ সালে, যদিও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল লেখা আছে ১৯৬৫। অর্থাৎ জমি কেনার দশ বছর আগে তার জন্মই হয়নি কাগজ অনুযায়ী।


রুশিয়া খাতুন বলেন, এই জমির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। কোনো জমি আমি কিনিনি। আমার জন্ম আসলে ১৯৭৫ সালে, পরিচয়পত্রে ভুলে ১৯৬৫ লেখা হয়ে গেছে।


তার ছেলে বলেন, আগে কী হয়েছিল আমরা জানি না। পরে শুনলাম মায়ের নামে জমি আছে। কীভাবে হলো বলতে পারব না। একজন অসহায় বুড়ো মানুষের সাথে এমন কিছু হওয়া ঠিক হয়নি।


অভিযোগ আছে, এরপর সাইফুল ইসলাম জমিটি নিজের নামে খারিজ করিয়ে নেন। তারপর ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পোয়ামারি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মজনু ওরফে ঝন্টুর কাছে জমিটি বিক্রি করে দেন।


এ ঘটনায় ২০২২ সালে সন্ধ্যা রানী আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন, যা এখনো বিচারাধীন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু তদন্ত প্রতিবেদন চান। পরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম প্রতিবেদন জমা দেন, কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তদেরই পক্ষ নেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)