ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র জানান, নতুন জেলা পরিষদ প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গায় তিনতলা বিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা পরিষদ বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করছে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ফরমে আবেদন অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সম্প্রতি হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হলেও এখনও রোগী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়নি। খুব শিগগিরই সীমিত পরিসরে রোগী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ভেন্টিলেটরসহ জটিল রোগীদের সেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল এখনও পর্যাপ্ত নয়।’
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, ‘ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার তিন একর জমি রয়েছে, যেখানে প্রায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ২৮০ ঘনফুট বর্জ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা আছে। তবে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রতিষ্ঠানটি প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়। এসময় পৌরসভার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ হাজার লিফলেট ছাপিয়ে জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘কোনো বাড়ি বা নির্মাণাধীন স্থাপনায় টানা তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ‘চলতি মৌসুমে আউশ আবাদ কার্যক্রমের প্রায় ২৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মাস শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় জেলায় ২৫ হাজার চারা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা যাদের প্রয়োজন, তারা চাহিদা অনুযায়ী আবেদন করলে এসব চারা বিতরণ করা হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সদর হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল চত্বরে বর্জ্যরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। গণপূর্ত বিভাগকে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিদিন সেবা নিতে অসংখ্য মানুষ আসেন। কিন্তু কার্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত অবস্থা সন্তোষজনক নয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে কার্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের নির্দেশনা দেন তিনি।
এসময় তিনি বিআরটিএ কার্যালয়ের সেবার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কালকে আমি ফেসবুক স্ক্রল করছিলাম, চুয়াডাঙ্গার একজন লিখেছেন- “বিআরটিএ অফিসে যাওয়ার থেকে গাড়ি বিক্রি করে দেওয়া ভালো।” আমার ধারণা ছিল যে আমাদের বিআরটিএ হয়ত ভালোভাবে কাজ করে, তবে গতদিনের ওই পোস্ট দেখার পর আমার ধারণা বদলে গেছে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আমার এডিএমকে বলব, আরও কঠোর হতে’। এবং বিআরটিএ কোর অফিসারকে হুশিয়ারি দিয়ে ডিসি বলেন, ‘দয়া করে সরিষার ভেতর ভুত রাখবেন না। আমার সামনে পড়লে কিন্তু কারো চাকরি থাকবে না।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পাঠদান কার্যক্রম জোরদারে শিক্ষকদের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। প্রয়োজনে টিসি দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চলমান বিশ্বকাপ মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ খেলার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জনসাধারণের চাহিদা ও মানসিকতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহিন আলম, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দীপক সাহা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা খাতুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র পাল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
