ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও দামুড়হুদা এবং আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আবারো ৪ মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীকে জেল জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দ-প্রাপ্তরা হলো- নিশিত পাল (২২), জুয়েল রানা (২৩), ওসমান (৩৩) ও দুলি খাতুন (৪৩)। ঝিনাইদহের বৈডাঙ্গা গ্রামের শংকর পালের ছেলে ও জুয়েল একই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে, ওসমান দামুড়হুদার দলকা লক্ষিপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ও দুলি খাতুন দামুড়হুদার গোপালপুর গ্রামের খালপাড়ার লিটনের স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহি অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হাসান এই আদালত পরিচালনা করেন। দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ও চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সদস্যরা এদেরকে আটক করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই শ্যামল চন্দ্র সমদ্দার সঙ্গীয় ফোস নিয়ে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদার দর্শনা রেলগেট থেকে নিশিত পাল ও জুয়েলকে মদ্যপ অবস্থায় আটক করে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সংবাদ দিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিট্রেট রফিকুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে উভয়কে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। উভয়ে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করে মুক্ত হন।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা দলকালক্ষীপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ওসমানকে(৩৩) তার বাড়ী থেকে ৪শ’ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে, একই সময় তারা দামুড়হুদার গোপালপুর গ্রামের খালপাড়ার লিটনের স্ত্রী দুলি খাতুনকে (৪৩) তার বাড়ী থেকে ৩শ’ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে। পরে বিকাল ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সংবাদ দিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওসমানকে ৬ মাস ও দুলি খাতুনকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেনের নেতৃত্বে এসআই গফুর, এসআই আব্দুল বাকী, দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ সুনিত কুমার গাইন, এসআই তপন কুমার নন্দী, এএসআই, সাজেদুল, এএসআই ইজাজ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১৪ জন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দামুড়হুদা বাসষ্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ৮ জনের ১৫ দিনের ও ২ জনের ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন ও বাকি ৪ জনের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। ওই আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হাসান।
এদিকে আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রেল ষ্টেশনের কাছ থেকে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ১ শত গ্রাম গাজা সহ আটক করে। জানা যায় আলমডাঙ্গা থানার এস.আই গিয়াস সঙ্গীয় ফোর্স সহ ষ্টেশনের কাছ থেকে কোর্টপাড়ার শফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবক রিয়াজ উদ্দিন মামুন (৩২) কে ১ শ’ গ্রাম গাজা সহ আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খবর দিলে বিকাল ৪ টার দিকে ষ্টেশনের গোডাউনের পাশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রিয়াজ উদ্দিন মামুনকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান। গতকালই তাকে চুয়াডাঙ্গা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর দিকে আলমডাঙ্গা থানার এসআই শাখাওয়াত নাগদাহ বলিয়ারপুর বাজার থেকে একই গ্রামের রাজ্জাক আলির ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আনিছুর ৫০ গ্রাম গাজা সহ আটক করেছে। অন্যদিকে আলমডাঙ্গা থানার এএসআই শফিকুল গতকাল রাতে কালিদাসপুর গ্রামের আনোয়ারের ছেলে জিআর মামলার আসামি মাসুমকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। তাদেরকেও গতকাল চুয়াডাঙ্গা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
