ছবির ক্যাপশন:
নিষিদ্ধ সংগঠন মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল ইসলাম টুটুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা রেজওয়ানুল হক ইমনের দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেটবদার করা হয়। গত বুধবার দিবাগত রাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি থেকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাহারবাটি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানা থেকে রাকিবুল ইসলাম টুটুলকে মেহেরপুর আদালতে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। যা বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবে অপরাধী নই। এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছি, সেটাই আজ আমার সবচেয়ে বড় অন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনা অপরাধে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি, সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতি করেছি। আজ আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শুধু আমি ‘জয় বাংলার’ লোক বলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি জয় বাংলা করা অপরাধ হয়, তাহলে আমি সেই অপরাধে অপরাধী। তবে মনে রাখবেন, আজ যারা আমাকে অপরাধী বানিয়েছেন, কাল বা কোন একদিন তারাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন। মানুষের মুক্তির জন্য শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরে আসবেন এবং দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করবেন।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে বলেন, আপনি আজ আমাদের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করেছেন। একদিন আপনার দলের রাজনৈতিক অধিকারও সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে বলে দাবি করেন। টুটুলের এই বক্তব্য ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ঘিরে থানা চত্বরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম টুটুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে সোপর্দ করার পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
