ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের হাটবোয়ালিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে মেহের চন্ডী জাতের কচুর আবাদ। মাঠের পর মাঠজুড়ে কচুর সবুজ পাতার সমারোহ যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে এলাকার কৃষকদের। অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ জাতের কচু চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আর বাম্পার ফলনের আশায় এমনই স্বপ্ন বুনছেন কৃষক উদ্যোক্তা মো. আমিরুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটবোয়ালিয়ার কৃষিজমিগুলোতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তাদের মধ্যে অন্যতম আমিরুল ইসলাম, যিনি কয়েক বিঘা জমিতে মেহের চন্ডী জাতের কচুর আবাদ করেছেন। জমিতে গাছের বৃদ্ধি ও সার্বিক অবস্থা দেখে তিনি আশাবাদী, চলতি মৌসুমে ভালো ফলন পাবেন।
কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, মাঘ মাসে কচুর বীজ রোপণ করা হয় এবং প্রায় ছয় মাস পর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তা উত্তোলন করে বাজারজাত করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে কচু চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার কচু বিক্রি করা সম্ভব হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকে।
তিনি বলেন, ‘মেহের চন্ডী জাতের কচুর বাজার চাহিদা ভালো। লাভও তুলনামূলক বেশি। তাই আমি এ বছর এ জাতের কচু আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছি।’
এ বিষয়ে ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার আবুল বাশার বলেন, ‘মেহের চন্ডী জাতের কচু অত্যন্ত উৎপাদনশীল ও লাভজনক একটি ফসল। সঠিক নিয়মে পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সচেতন থাকলে কৃষকরা প্রতি বিঘা জমি থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে।’
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
