চুয়াডাঙ্গায় ডিক্লারেশন প্রাপ্ত ১৬ পত্রিকার ১০ টিরই প্রকাশনা বন্ধ

আপলোড তারিখঃ 2017-11-21 ইং
চুয়াডাঙ্গায় ডিক্লারেশন প্রাপ্ত ১৬ পত্রিকার ১০ টিরই প্রকাশনা বন্ধ ছবির ক্যাপশন:
কাজীর গরু- কিতাবে আছে গোয়ালে নেই! নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় ১৮ লক্ষের এ সীমান্তবর্তী জনপদের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত পত্রিকার সংখ্যা ১৬টি। এরমধ্যে দৈনিক ১০টি, সাপ্তাহিক ৪টি এবং মাসিক ও পাক্ষিক ২টি। এতেও মনে হয় সংখ্যাটা কম হয়ে যায়; তাই ডিক্লারেশনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন জমা পড়ে রয়েছে আরো ডজন খানেক স্থানীয় পত্রিকার। এরমধ্যে যদি অন্তত ১০টি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয় তবে মনে হয় জেলার মানুষকে খবরের জন্য অপেক্ষা করা লাগবে না; বরং খবর তাদের দোয়ারে গিয়ে কড়া নাড়বে। প্রবাদে আছে কাজীর গরু- কিতাবে আছে গোয়ালে নেই! চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় পত্রিকার হালচিত্রে মনে হয় এমন দরূণ দশায় পরিণত হয়েছে। কারণ- কাগজপত্রে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও পাক্ষিক মিলে ১৬ টি পত্রিকার ডিক্লারেশন রয়েছে। এরমধ্যে ১০টিরই প্রকাশনা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে নিয়মিত ৬টি পত্রিকা প্রকাশের বীপরিতে রয়েছে ১০টি দৈনিক, ৪টি সাপ্তাহিক, একটি পাক্ষিক ও একটি মাসিক পত্রিকা। আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরো ১২টিরও বেশি পত্রিকা। এরমধ্যে সরদার আল আমিন সম্পাদিত দৈনিক মাথাভাঙ্গা ১৯৯১ সাল থেকে, আজাদ মালিতা সম্পাদিত দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল ২০০৭ সাল থেকে, রুহুল আমিন রতন সম্পাদিত দৈনিক আমাদের সংবাদ ২০১১ সাল থেকে, আসাদুজ্জামান আসাদ সম্পাদিত প্রতিদিনের নতুন খবর ২০১২ সাল থেকে, এড. তছিরুল আলম মালিক ডিউক সম্পাদিত দৈনিক আকাশ খবর ২০১৫ সাল থেকে ও মো. শরীফুজ্জামান শরীফ সম্পাদিত দৈনিক সময়ের সমীকরণ ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে। এদিকে ০১/০৮/১৬ তারিখ থেকে আব্দুল আজিজের দৈনিক চুয়াডাঙ্গা ও ২৩/০৯/২০১৪ তারিখ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের দৈনিক আলোকিত দেশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; যা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি বলে জানা যায়। অপরদিকে এ.কে.এম জাহাঙ্গীর আলম (জেড আলম) সম্পাদিত দৈনিক আজকের খাসখবর ২০১৩ সাল থেকে ও হারুন অর রশিদ পান্না সম্পাদিত দৈনিক সকালের খোঁজ খবর ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশের কথা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মিত রয়েছে। অন্যান্য পত্রিকাগুলোর তথ্যে বলা হয়, ১৯৮৭ সালের ২৬ জুলাই থেকে নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে আনোয়ার হোসেন সম্পাদিত সাপ্তাহিক চুয়াডাঙ্গা দর্পণ, ২০০৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে জেড আলম সম্পাদিত সাপ্তাহিক আমাদের খোঁজখবর, ২০১৪ সালের ৬ মে থেকে ফারুক হোসেন সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাজের খবর ও ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট থেকে শামসুল আলম সম্পাদিত সাপ্তাহিক জীবননগর বার্তা। তবে বিগত কয়েক মাসে নিয়মিত সাপ্তাহিক এ পত্রিকাগুলোর কোনটিই খুজে পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। দীর্ঘদিন প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে রিচার্ড রহমান সম্পাদিত মাসিক দিন বদলের সংবাদ ও মরিয়ম শেলী সম্পাদিত পাক্ষিক মধ্যবাংলা। পত্রিকা প্রকাশ না হলেও পদবলে বহাল তবিয়তেই ঘুরে বেড়ান সম্পাদক-প্রকাশক মহোদয়েরা। বিভিন্ন সভা, অনুষ্ঠান, সেমিনার, সংবাদ সম্মেলনে তারা থাকেন প্রথম সারিতে। এ সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। এদিকে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা এবং প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন), অধ্যাদেশ আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকা। এ আইনের ৯ ধারার (১) ৭ ধারা অনুসারে ডিক্লারেশন প্রদানের ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সংবাদপত্র প্রকাশ না করলে এরূপ ডিক্লারেশন বাতিল বলে গণ্য হবে। যেমন আইন তেমন কার্যকারিতা জেনেই হয়তো কোন কোন পত্রিকা নামকাওয়াস্তে তাদের ডিক্লারেশন বহাল রাখার স্বার্থে মাঝে মাঝে কয়েকটি পত্রিকা ছেপে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দপ্তরের মধ্যেই তাদের প্রকাশনা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝে উঠতে পারে না আসলে এটি নিয়মিত নাকি অনিয়মিত পত্রিকা। এ আইনের ৭ ধারা অনুসারে মুদ্রণকারী ও প্রকাশকের ডিক্লারেশনের ব্যাপারে বলা হয়েছে ‘প্রত্যেক সংবাদপত্রের মুদ্রণকারী এবং প্রকাশক সশরীরে বা বিধান অনুসারে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত এজেন্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ফরম ‘খ’ ডিক্লারেশন প্রদান করবেন। কিন্তু ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর স্থানীয় একটি পত্রিকার মেয়াদ শেষ হলেও সময় মঞ্জুর না করেই সম্প্রতি নিয়মিত প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। এ আইনের ২৬ ধারায় সরকারকে বিনামূল্যে সংবাদপত্রের কপি সরবরাহের কথা থাকলেও দু’তিনটি পত্রিকা মাঝে মাঝে আসলেও বেশির ভাগ সময়ই এসে পৌছায় না সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। যেখানে স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ করা আছে প্রত্যেকটি সংবাদপত্রের প্রিন্টারকে এরূপ সংবাদপত্রের প্রত্যেকটি ইস্যুর ৪ (চার) কপি বিনামূল্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ব্যক্তি তথা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ও স্থানে সরবরাহ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘নিয়মিত ও অনিয়মিত পত্রিকার একটি তালিকা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে একটি রেজিস্টার করে তাতে দপ্তরে আসা পত্রিকাগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়। সে হিসেবে আজ পর্যন্ত কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত এ দপ্তরে আসে। এ হিসেবে দেখা যায় বর্তমানে মাত্র ৬টি পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশনা কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিঘ্রই জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত পত্রিকাগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)