ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা থেকে নিখোঁজ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান আলী (১০) অবশেষে তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। দৈনিক সময়ের সমীকরণ পরিবারের আন্তরিক উদ্যোগ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা কয়েকজন মানবিক আম ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি জে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হাসান আলী গত বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গার ভিমরুল্লা এলাকা থেকে মুন্সিগঞ্জগামী একটি ইজিবাইকে ওঠে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও পরিচয় দিয়ে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়।
এদিকে, মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকানন এলাকায় একা ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা কয়েকজন আম ব্যবসায়ী শিশুটির প্রতি মানবিক সহমর্মিতা দেখান। পরিচয় জানতে চাইলে সে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে না পারায় তারা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখেন।
পরে তারা দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর মুজিবনগর প্রতিনিধি সোহাগ মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পত্রিকার চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ে জানানো হলে নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য ও মাইকিংয়ের সূত্র ধরে দ্রুত হাসানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। খবর পেয়ে হাসানের পরিবার দ্রুত মুজিবনগরে পৌঁছায়। সেখানে সময়ের সমীকরণ পরিবারের সদস্য সোহাগ মন্ডল ও আম ব্যবসায়ী সানাউল্লাহর উপস্থিতিতে হাসানকে তার মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার স্বজনরা। আনন্দ আর অশ্রুর এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় সেখানে।
সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন হাসানের পরিবার। একই সঙ্গে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পরিবার এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তারা। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল- সদিচ্ছা থাকলে হারিয়ে যাওয়া একজন শিশুকেও নিরাপদে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
