ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদের চালান সংক্রান্ত নথিতে অগ্রিম স্বাক্ষর এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও দায়িত্ব পালনের অভিযোগ ওঠার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শাহজালাল খানকে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত সোমবার (১ জুন) তাকে ঢাকায় ক্লোজড করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন পরিদর্শক শাহজালাল খান। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানো এবং মদের চালান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিতে অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কাজ বা ছুটিতে জেলার বাইরে অবস্থান করলেও কেরুর কিছু নথিপত্রে তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। গত ১৮ ও ১৯ মে তিনি নৈমিত্তিক ছুটিতে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে ওই সময় কেরু থেকে পাঠানো মদের চালান সংক্রান্ত কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
কেরু কোম্পানির একাধিক সূত্রের দাবি, মদের চালান তার অনুপস্থিতির কারণে যাতে আটকে না যায়, সে জন্য তিনি আগে থেকেই চালানপত্র এবং কিছু ভাউচারে স্বাক্ষর করে রাখতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পর্শকাতর এ ধরনের নথিতে অগ্রিম স্বাক্ষর প্রশাসনিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি আমলে নেয়। পরে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার শাহজালাল খানকে ঢাকায় ক্লোজড করা হয়। পাশাপাশি তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ শামছুল আলম গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরও জানান, বিভাগীয় পর্যায়েও এ বিষয়ে পৃথক তদন্ত হতে পারে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
