ছবির ক্যাপশন:
রাস্তার পাশে তখন মৃগী রোগের তীব্র টানে ছটফট করছিলেন এক অসহায় মানুষ। মুখে ফেনা, শরীর অসাড়, জ্ঞান হারিয়ে প্রায় মৃতবৎ অবস্থা। ঠিক সেই মুহূর্তে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বদলে, ছটফট করতে থাকা মানুষটির বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন উপার্জনের একমাত্র ভ্যান গাড়িটি নিয়ে চম্পট দিল একদল দুর্বৃত্ত।
নিষ্ঠুর ও অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের কালীচরণপুর এলাকায়। ভুক্তভোগী ওই ভ্যানচালকের নাম কলম সর্দার (৪০)। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জ্ঞান ফেরার পর নিজের একমাত্র সম্বল চুরির খবর শুনে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এখন কেবলই চোখের পানি ফেলছেন এই ভাগ্যাহত মানুষটি।
কালীচরণপুরের বাসিন্দা সোহাগ হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টার দিকে জীবিকার তাগিদে রিকশাভ্যান নিয়ে বের হন কলম সর্দার। শহরে যাওয়ার পথে হঠাৎ তার তীব্র মৃগী রোগের কাঁপুনি শুরু হয় এবং তিনি রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে আশপাশে থাকা কোনো দুর্বৃত্ত তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ভ্যান গাড়িটি চুরি করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, সকাল ১০টার দিকে আরেকজন ভ্যানচালক তাকে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন এবং ভর্তি করিয়ে দিয়ে চলে যান। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের বেডে নিজেকে আবিষ্কার করেন কলম সর্দার। জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, যে ভ্যানটি চালিয়ে তিনি স্ত্রী-সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতেন, সেটি আর নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কলম সর্দার বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, মৃগী রোগের কারণে প্রায়ই শরীর কাঁপন দিয়ে ওঠে। আজকেও ভ্যান চালানো অবস্থায় হঠাৎ রোগটা চাড়া দিয়ে ওঠে, তারপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে শুনছি আমার ভ্যানটা কে বা কারা নিয়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে বাঁচব, পরিবারকে কী খাওয়াব?’
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহীন ঢালি জানান, সোমবার সকালে যখন কলম সর্দারকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার স্বাভাবিক জ্ঞান ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল তাকে হয়ত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কোনো চেতনানাশক খাইয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগীর ইতিহাস জেনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাকে কোনো চেতনানাশক দেওয়া হয়নি। মূলত তিনি তীব্র মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। আর সেই চরম অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কোনো নিষ্ঠুর চক্র তার ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে গেছে। চিকিৎসক আরও জানান, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
