ছবির ক্যাপশন:
নাচ-গান করার অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই নারীর মরদেহ শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে দাফন কাজে বাধা দেয় এলাকার লোকজন। তবে রাত সাড়ে ১০টায় প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থান কমিটির অনুমতি ও কবরস্থানের ন্যূনতম সদস্য ফি (৭ হাজার টাকা) প্রদান করে সুবর্ণা আক্তারের দাফন করা হয়।
এর আগে গত বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। সেখানে স্বামীর সাথে বসবাস করতেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গার শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটে। দিনভর চলে নানা নাটকীয়তা। এ নিয়ে থমথমে পরিবেশ ছিলো এলাকাজুড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোট থেকেই নাচ-গান করে বেড়াতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেত। সে টিকটকে অশ্লীল নাচানাচি করত। এমনকি তার পরিবারের লোকজন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এসব কাজে বাধা দিলে বহিরাগত লোকজন এনে এলাকাবাসীকে হুমকি-ধমকি দিত। তাছাড়া তারা এখানকার স্থানীয় না। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় ভাড়ায় আসে। সুবর্ণা আক্তারের দাফন তার বাবা অথবা স্বামীর গ্রামে দেয়ার জন্য দাবি জানান তারা।
স্থানীয় আসাদুজ্জামান নামে একজন বলেন, ‘মেয়েটির চরিত্র ভালো না। এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছে। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক।’ আরেকজন মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না।’ এর আগে সদস্য হওয়ার জন্য বললেও তারা অগ্রাহ্য করেন।
সুবর্ণা আক্তারের ভাই সুমন হোসেন বলেন, ‘এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেয়া হয়নি। কিন্তু সুবর্ণার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়া হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থানের ন্যূনতম সদস্য ফি ৭ হাজার টাকা প্রদান করে আমরা দাফন করেছি।’
দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার জান্নাতুল বাকী কবরস্থানের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা না করিনি। এলাকাবাসীর একটি ক্ষোভ ছিল। তারা নানা রকম মন্তব্য করেছে, যেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের কবরস্থানের সদস্য নাহলে এখানে দাফনের নিয়ম নেই। তারা ন্যূনতম সদস্য ফি দিয়ে এখানে দাফন করেছে। আমি নিজেই এই কবরটি খুড়েছি। এখানেই দাফন হয়েছে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ‘এলাকাবাসীর সামান্য ক্ষোভ ছিল। তবে বিষয়টি এখন সমাধান করা হয়েছে।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানাল পাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। সংসারে পরপর দুই মেয়ে এক ছেলে জন্ম নেয়। সংসারে দাম্পত্য কলহের জেরে হলে গত ৬ বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার পাভেলের সঙ্গে বিয়ে করেন সুবর্ণা। সুবর্ণার পরিবারের লোকজনের দাবি, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা করেছে।
