ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আবু আসলাম সোহাগ গোলাপ ফুল চাষ করে এলাকায় সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যশোর থেকে গোলাপের চারা এনে ছোট পরিসরে শুরু করা তার উদ্যোগ বর্তমানে বড় আকারের লাভজনক ফুল চাষে পরিণত হয়েছে। প্রথমে মাত্র এক বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার বাগানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় বিঘায়। তার বাগানে বিভিন্ন জাতের বাহারি গোলাপের মধ্যে রয়েছে- ডাচ গোলাপ, প্রিন্স গোলাপ, হলুদ গোলাপ, সাদা গোলাপ, লাল খয়েরি গোলাপ ও টকটকে লাল গোলাপসহ নানা রঙের আকর্ষণীয় ফুল। বাগানের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
আবু আসলাম সোহাগ জানান, গোলাপ ফুল বিক্রি করে তিনি প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করছেন। তার বাগান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার ফুল ব্যবসায়ীরা ফুল সংগ্রহ করে ঢাকা, ভোলা, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। গোলাপ চাষের মাধ্যমে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন বাগানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। কেউ ফুলের পরিচর্যা করেন, কেউ গাছের গোড়ায় মাটি দেন, আবার কেউ কীটনাশক প্রয়োগ ও ফুল সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকেন।
গোলাপ বাগানের ম্যানেজার মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই ফার্মে সততার সঙ্গে কাজ করে আসছি। প্রতিদিন শ্রমিকদের নিয়ে বাগানের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, গাছে কীটনাশক প্রয়োগ ও ফুল সংগ্রহের কাজ করা হয়। নিজের বাগানের মতো করেই আমি এই ফার্মটির দেখাশোনা করি।’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও আবু আসলাম সোহাগের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে ফুল চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ সবসময় অব্যাহত থাকবে। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, ‘আবু আসলাম সোহাগের ফুল বাগান দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। তিনি যেকোনো পরামর্শের প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ সবসময় তার পাশে থাকবে। ফুল চাষকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
আবু আসলাম সোহাগের এই সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষক এখন গোলাপ ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিচর্যা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুল চাষেও বড় ধরনের সফলতা অর্জন সম্ভব- আর তারই উজ্জ্বল উদাহরণ কুতুবপুরের আবু আসলাম সোহাগ।
